নির্বাচন ঘিরে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে রুখে দেয়া হবে: তোফায়েল

news portal website developers

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

শনিবার রাজধনীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে চাঁদপুরগামী এক সম্প্রীতি নৌ-বিহারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। নির্বাচিত ক্ষমতাসীন সরকার ক্ষমতায় থাকবে। নির্বাচন কমিশন থেকে নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন হবে। কেউ এখানে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে রুখে দেয়া হবে। এসময় সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচিত সরকার বিলুপ্ত করার কোনো প্রশ্নই উঠে না বলেও জানান তিনি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্মবার্ষিকী এবং বিশ্ব শান্তি দিবস উপলক্ষে আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতি সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইউনাইটেড রিলিজিয়ন ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের বিদ্যাসাগর সোসাইটি সিসি ও ইন্টার রিলিজিয়ন হারমোনি সোসাইটি সিসি’র যৌথ উদ্যোগে বুড়িগঙ্গা থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত এই নৌবিহারের আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর চিন্তা চেতনা এবং দর্শন ছিল অসাম্প্রদায়িক। বিশ্ব শান্তির আহ্বান ছিল তার কণ্ঠে সদা উচ্চকিত। সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র পাকিস্তান ভেঙ্গে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনে ২৩ বছর তার ত্যাগ তিতিক্ষা এবং ১২ বছর কারাবাস করে ফাঁসির মঞ্চে গিয়েও আত্মসমর্পণ না করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন, তিনি ছিলেন সারা বিশ্বের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসীদের মধ্যে অন্যতম। শোষণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে এবং সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে এনে দিয়েছিলেন মহান স্বাধীনতা।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দুটি স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে স্বাধীন করা এবং বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করা। আমাদের তিনি স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তার প্রথম স্বপ্ন তিনি পূরণ করেছেন। আরেকটি স্বপ্ন যখন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছিলেন, তখনই বুলেটের আঘাতে সপরিবারে জাতির জনককে হত্যা করা হয়। জাতির জনককে হারানোর দুঃখের মধ্যে ৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যার হাতে আমরা যে পতাকা তুলে দিয়েছিলাম, সেই পতাকা হাতে নিয়ে নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে আজকে তিনি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। প্রতিপক্ষের শত ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে আর্থ-সামাজিক প্রতিটি সূচক আজ ইতিবাচক অগ্রগতির দিকে ধাবমান।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভারতের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সিনিয়র সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে এমভি বাঙালি জাহাজেই ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন: আন্ত:ধর্মীয় সম্প্রীতির মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা’ শীর্ষক আলোচনা সভা। আলোচকদের মধ্যে থাকবেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহ-সভাপতি ভেনারেবল বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো, ঢাবির অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক, ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাবেক মহা হিসাব নিরীক্ষক মাসুদ গ রোজারিও, ইন্টার রিলিজিয়ন হারমোনি সোসাইটির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মিঞা মুজিবুর রহমান, গুরুদোয়ারা নানকশাহীর গ্রন্থী মি. যশোবন্ত সিং, কোরআর রিচার্স ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ নারী লেখক সোসাইটির সভাপতি গুলশান আরা হেনা।

অন্যদিকে ভারতের বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত থাকবেন ভারতের থিওসফিক্যাল সোসাইটির ন্যাশনাল কো- অর্ডিনেটর শ্রী বীরেন্দ্র লাল ভট্ট্রচার্য, যাদবপুর ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক পবিত্র সরকার, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সত্যনারায়ণ চক্রবর্তী, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. প্রগলাদ রায়, কথা সাহিত্যিক ও অনুবাদক শ্রী অলোক কুমার বসু, কলকাতার বিদ্যাসাগর দ্বিশত জন্মবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভাপতি মি. হেমেন্দু বিকাশ চৌধুরী, কবি ও শিক্ষাবিদ ড. অভিজিৎ ঘোষ, কলকাতা দূরদর্শনের সঞ্চালক শ্রী উজ্জল ভট্টাচার্য, চিত্র পরিচালক শ্রী অমলেশ দাশগুপ্ত, কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক শ্রী রতন কুমার নন্দী, কলকাতার নতুন গতির সম্পাদক এমদাদুল হক নূর, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন মিদ্দে ও বিদ্যাসাগর চর্চা কেন্দ্রের সম্পাদক মিসেস মধুশ্রী চৌধুরী।

এর আগে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ইউনাইটেড রিলিজিয়ন ইনিশিয়েটিভ এর এশিয়ান ট্রাস্ট্রি রেভাঃ কল্যাণ কুমার কিস্কু এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন ইন্ডিয়া ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর মি. বিশ্বদেব চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংবাদ উপস্থাপিকা শ্রীমতি প্রীতিলতা পোদ্দার।

loading...