চার বাধায় বাড়ছে না বাংলাদেশের বাণিজ্য: বিশ্ব ব্যাংক

news portal website developers

চার ধরনের বাধায় বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়ছে না। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ শুল্ক, আধা শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, কানেকটিভিটি খরচ এবং সীমান্ত আস্থার সঙ্কট। ‘এ গ্লাস হাফ ফুল: দ্য প্রমিজ অব রিজিওনাল ট্রেড ইউনিয়ন ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্ব ব্যাংক।

বুধবার রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ‘হোটেল আমারি’তে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ব্যাংক ঢাকা অফিস আয়োজিত দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য বাধা বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে বাংলাদেশের বাণিজ্য এখন ৮৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যের পরিমাণ হচ্ছে মাত্র ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। বিশ্বে যেখানে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে, সেখানে গত ২৫ বছরে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের বাণিজ্যের পরিমাণ ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে আটকে আছে।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষের তৈরি বাণিজ্য বাধা দূর করতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বাণিজ্য তিন গুণ বাড়ানো সম্ভব এবং বর্তমানে আঞ্চলিক বাণিজ্য ২৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৬৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চার ধরনের বাধার কারণে বাংলাদেশের বাণিজ্য বাড়ছে না। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ শুল্ক, আধা শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, কানেকটিভিটি খরচ এবং সীমান্ত আস্থার সঙ্কট। এতে বলা হয়, বিশ্বে বাংলাদেশের বাণিজ্য এখন ৮৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। অথচ দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য হচ্ছে মাত্র ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের। বিশ্বে যেখানে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে, সেখানে গত ২৫ বছরে এ অঞ্চলের বাণিজ্য ২৩ বিলিয়ন ডলারে আটকে আছে।

অনুষ্ঠানে ‘এ গ্লাস হাফ ফুল: দ্য প্রমিজ অব রিজিওনাল ট্রেড ইউনিয়ন ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনের সার-সংক্ষেপ উপস্থাপন করেন বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও সমন্বয়ক সঞ্জয় কাঠুরিয়া। প্রতিবেদনে সঞ্জয় কাঠুরিয়া বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সাফটা চুক্তি রয়েছে। ফলে কোনও শুল্ক থাকার কথা নয়। অথচ এ অঞ্চলেই বেশি শুল্ক রয়েছে। সরাসরি শুল্কের বাইরেও আধা ট্যারিফ রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আঞ্চলিক বাণিজ্যে বড় বাধা হচ্ছে শুল্ক। তবে এর বাইরেও অশুল্ক বাধা রয়েছে। সেগুলো দূর করতে চেষ্টা চলছে। কানেকটিভিটি বাড়ানো হচ্ছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্পর্শকাতর তালিকায় থাকা পণ্যের সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করছি। বাংলাদেশের বাণিজ্য আমেরিকা ও ইউরোপনির্ভর। কারণ সেখানে সুবিধা বেশি পাওয়া যায়।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘৪৭ এর মতো কানেকটিভিটি সম্ভব নয়, তবে চেষ্টা চলছে। সাফটা কার্যকরের মাধ্যমে নতুন করে কানেকটিভিটি কার্যকর করা হবে। আমরা ভারতের সঙ্গে কানেকটিভিটি বাড়াতে কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এগুলো বাস্তবায়ন হলে আমাদের কানেকটিভিটি বাড়বে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন– পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. জায়েদি সাত্তার, বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান।

loading...