আত্মহত্যা রুখতে স্ক্রিনডোর

স্টেশনে হলুদ রঙের সীমানা তো ছিলই৷ আত্মহত্যা রুখতে এবার ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোতে বসল স্ক্রিনডোর৷ মঙ্গলবার এই বিশেষ দরজা বসানো হল করুণাময়ী মেট্রো স্টেশনে৷

মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধাপে ধাপে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো সবকটি স্টেশনে বসবে স্ক্রিনডোর৷ স্টেশন প্রতি খরচ পড়বে ৫ কোটি টাকা৷ কলকাতা থেকে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিদিন পত্রিকায় এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এ শহরের পরিবহণের লাইফলাইন মেট্রো৷ অফিসে ব্যস্ত সময় তো বটেই, দিনের অন্য সময়ে মেট্রোতে যথেষ্ট ভিড় থাকে৷ সত্যি কথা বলতে, শহরের রাস্তায় যানজট লেগেই থাকে৷ তাই দ্রুত ও নির্বিঘ্নেই গন্তব্য পৌঁছতে মেট্রোর বিকল্প নেই৷ কিন্তু, ইদানিং আবার মেট্রো আত্মহত্যার প্রবণতা বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে৷ স্টেশন ঢোকার মুখে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করছেন অনেকেই৷ দুর্ভোগে বাড়ছে যাত্রীদের৷ আত্মহত্যা রুখতে স্টেশন নজরদারি যেমন বেড়েছে, তেমনি প্ল্যাটফর্মে হলুদ রঙের দাগ দিয়ে বিপদসীমা চিহ্নিত করে দিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ৷ কিন্তু সমস্যা মেটেনি৷ তাই নির্মীয়মাণ ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সবকটি স্টেশনে স্ক্রিনডোর বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ৷ বুধবার প্রথম দফায় স্ক্রিনডোর বসল করুণময়ী স্টেশন৷

সূত্রের খবর, আত্মহত্যা রুখতে এই বিশেষ ধরনের দরজা চিন থেকে আমদানি করা হয়েছে৷ একটি মেট্রো স্টেশনে স্ক্রিনডোর বসাতে খরচ পড়বে ৫ কোটি টাকা৷ মেট্রো রেলে প্রতিটি কামরায় দরজা থাকে৷ দরজাগুলি স্বয়ংক্রিয়৷ ট্রেন স্টেশন থামলেই আপনা থেকে খুলে যায় মেট্রোর দরজা৷ নির্দিষ্ট সময় পর ফের বন্ধ হয়ে যায় দরজা৷ কিন্তু, মেট্রো স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কিন্তু তেমন কোনও দরজা নেই৷ অর্থাৎ ট্রেন ঢোকা আগে পর্যন্ত যে কেউ চাইলেই প্ল্যাটফর্ম থেকে মেট্রোর লাইনে নেমে যেতে পারেন কিংবা ঝাঁপ দিতে পারেন৷ ঠিক যেভাবে সাধারণ রেল স্টেশনে লাইনে পেরিয়ে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে যান যাত্রীরা৷ যাঁরা মেট্রোয় আত্মহত্যা করতে চান, তাঁরা এই সুযোগটাকেই কাজে লাগান৷ নজরদারি এড়িয়ে যদি একবার চলন্ত মেট্রো সামনে ঝাঁপ দেওয়া যায়, তাহলে মৃত্যু কার্যত অনিবার্য৷ আত্মহত্যা রুখতে প্রতিটি স্টেশনে প্ল্যাটফর্মে স্ক্রিনডোর বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ৷ যখন স্টেশনে ট্রেন থাকবে না, তখন স্ক্রিনডোরটি বন্ধ থাকবে৷ ফলে প্ল্যাটফর্মে কেউ লাইনে নামতে বা ঝাঁপ দিতে পারবেন না৷ ট্রেন ঢোকার পর কামরার ও স্ক্রিনডোর একসঙ্গে খুলে যাবে৷ নির্দিষ্ট সময় পর দুটি দরজা আবার একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে৷ পরের ট্রেন না আসা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে প্ল্যাটফর্মের স্ক্রিনডোর৷ যদি যান্ত্রিক ক্রুটি বা অন্যকোনও কারণে স্ক্রিনডোর না খুলে, সেক্ষেত্রে আপদকালীন দরজা দিয়ে মেট্রোয় উঠতে পারবেন যাত্রীরা৷ স্ক্রিনডোরের পাশেই থাকবে এই দরজা৷

news portal website developers eCommerce Website Design