তাহলে কি টেস্টে নেতৃত্ব হারাচ্ছেন সাকিব!

news portal website developers

sakibস্পোর্টস ডেস্ক: সাকিব আল হাসান টেস্ট খেলতে চান না।’- এমন মন্তব্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসানের। তার এমন মন্তব্যে দুটি প্রশ্নই সামনে এসেছে।

একটি হলো- কেন সাত মাস আগে মুশফিকুর রহীমকে বাদ দিয়ে সাকিবের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়া হলো! কারণ তার টেস্ট খেলার প্রতি আগ্রহ কম এমন গুঞ্জনতো অনেক আগেই ছিল। দ্বিতীয় প্রশ্ন তাহলে ফের টেস্টের নেতৃত্ব হারাচ্ছেন সাকিব? বলার অপেক্ষা রাখে না সাকিব যদি টেস্ট খেলতেই না চান, তাহলে কেন তিনি অধিনায়ক হিসেবে থাকবেন?

নাজমুল হাসান তাহলে টেস্টে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন! শুধু সাকিবই নয় বিসিবি সভাপতি জানান, সাদা পোশাকে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছা নেই তরুণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানেরও।

ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ দলের বিপর্যয় নিয়ে শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এখন দেখছি, বেশ কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার, তারাও টেস্ট খেলতে চাচ্ছে না। চাচ্ছে না বলতে আমি বলছি যেমন সাকিব টেস্ট খেলতে চায় না। মোস্তাফিজও টেস্ট খেলতে চায় না। ও বলে না যে খেলতে চায় না, চায় একটু এড়িয়ে চলতে। হতে পারে ও ইনজুরি প্রবণ বেশি, টেস্ট খেলতে গিয়ে আবার ইনজুরিতে পড়বে, হতে পারে এ কারণে।’

সাকিব আল হাসান টেস্ট খেলতে আগ্রহী নয় এমন গুঞ্জন অনেক দিনের। সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ২০১৪তে বাংলাদেশ দলে যোগ দেয়ার পর সিপিএল খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চলে গিয়েছিলেন সাকিব। বলা হচ্ছিল সাকিব বিসিবির অনুমতি ছাড়াই চলে গেছেন। এ ছাড়াও তখন না কি সাকিব কোচকে চিঠিও দিয়েছেন যে তিনি টেস্ট খেলতে আগ্রহী নন। এরপর অনেক জল ঘোলা হয়েছে। সাকিব নানা কারণে ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয়েছেন। আবার ক্ষমা চেয়ে তিনি ফিরেছেনও শাস্তি কমিয়ে। এরপর গেল বছর হঠাৎ করেই সাকিব ছয় মাসের জন্য টেস্ট থেকে বিশ্রাম চান। তখন বোর্ড তাকে তিন মাসের ছুটি দেন। তবে, ইনজুরির কারণে তিনি গেল বছর থেকে কোনো টেস্টই খেলতে পারেননি। প্রায় ১০ মাস পর তিনি মাঠে নামেন সাদা পোশাকে খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। যেখানে ব্যাটিং লজ্জায় ডুবে দল হোয়াটওয়াশ হয়েছে বিব্রতকর সব রেকর্ড নিয়ে।

তবে, সাকিব টেস্ট না খেললেও ভারতীয় ঘরোয়া আসর আইপিএলে খেলেছেন। সেখান থেকে দেশে ফিরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে দল বাজেভাবে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়। তখনই প্রশ্ন উঠে সাকিবের নেতৃত্ব নিয়ে। বিশেষ করে আইপিএল খেলে এসে তিনি দলের সঙ্গে যাননি ভারতে। বোলিং পরিবর্তন, মাঠে নানা ভুলে তার নেতৃত্ব নিয়েও ছিল প্রশ্ন। তখনই গুঞ্জন ওঠে হয়তো নেতৃত্ব হারাচ্ছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্টে বাজে পারফরম্যান্সের পর সেই গুঞ্জন এখন ডালপালা মেলেছে। আর বোর্ড সভাপতির কথাতে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আর হয়তো এসব কারণেই বোর্ড সভাপতি এখন পুরনো ক্রিকেটারদের পরিবর্তে টেস্টে তরুণদেরই আগ্রহী করতে চান। তিনি বলেন, ‘এখন অনেকেই টেস্ট খেলতে চায় না। টেস্ট তো একটু কঠিন। রুবেল অনেক অভিজ্ঞ। অনেক দিন ধরে আমাদের সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। ওর জন্যও টেস্ট একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তরুণ প্রজন্ম থেকে ক্রিকেটার নিয়ে আসতে হবে।’

সেই সঙ্গে নতুন দল গড়ারও ইঙ্গিত দেন তিনি। নাজমুল হাসান বলেন, ‘টেস্টের জন্য আমাদের নতুন দল গড়তে হবে। পারলে টি-টোয়েন্টিতেও। হয়তো তিন-চারজন কমন থাকবে। সব দেশ এখন তা করে। সবারই স্পেশালিস্ট টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ক্রিকেটার আছে।’

মোস্তাফিজের জন্য কঠোর বিসিবি
২০১৫তে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ধূমকেতুর মতো আবির্ভূত হন মোস্তাফিজুর রহমান। এ তরুণ পেসার নিজের ক্যারিয়ারের শুরু ছয় মাসেই ঢুকে পরেন আইসিসির সেরা একাদশে। কিন্তু ধীরে ধীরে হারাতে শুরু করেন তিনি। বিশেষ করে তার প্রথম আইপিএল সফরের পর থেকেই একের পর এক ইনজুরি তাকে জাতীয় দল থেকে ছিটকে ফেলে। কাঁধে আস্ত্রোপচারের কারণে প্রায় এক বছরের মতো থাকেন দলের বাইরে। ২০১৭তে দলে ফিরলেও যেন হারিয়ে যান সেই কাটার মাস্টার। গেল বছর ফের আইপিএলে যান সেখানে থেকে ফিরে ফের ইনজুরি আক্রান্ত হন। তাতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজের দল থেকেও ছিটকে পড়েন। সেই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ থেকেও ছিটকে পড়েন। তখনই দৈনিক মানবজমিনকে একান্ত সাক্ষাৎকারে নাজমুল হাসান মোস্তাফিজের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। জানিয়েছিলেন তার বিদেশে টি-টোয়েন্টি লীগ খেলার বিষয়ে কঠোর হবে বিসিবি। শুক্রবার আবোরো তিনি জানালেন মোস্তাফিজের আগামী দুই বছর টি-টোয়েন্টি লীগে খেলা উচিত হবে না।

তিনি বলেন, ‘মোস্তাফিজ এসে শুরুতে অসাধারণ সাফল্য নিয়ে এসেছিল। এখন বারবার ইনজুরিতে পড়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, ও বাইরে ফ্রাঞ্চাইজি লীগ খেলতে গিয়ে ইনজুরড হচ্ছে, আর দেশকে সার্ভিস দিতে পারছে না। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের বোর্ডে থাকবে, বোর্ডই তাকে সেবা করবে, ভালো করবে, আবার সে ওখানে ওদের জন্য খেলতে গিয়ে জাতীয় দলে খেলবে না, আবার আমরা ওকে ঠিক করব, এটা হয় না। জানি না শেষ পর্যন্ত কি হবে, তবে, আমি ওকে বলে দিয়েছি, আগামী দুই বছর ওর বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না।’

loading...