ভারতের বিমানবন্দরে ঠেলে সরানো হলো বাংলাদেশের বিকল বিমান

news portal website developers

ডেস্ক রিপোর্ট: তিন বছর ধরে মধ্য ভারতের একটি বিমানবন্দরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত একটি বাংলাদেশি বিমানকে কর্তৃপক্ষ পার্কিং লট থেকে এক কোণে সরিয়ে দিয়েছে। বিমানটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কাছ থেকে বকেয়া ফি আদায়ের সম্ভাবনা না থাকায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

bimanগতকাল শুক্রবার (২০ জুলাই) ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ এয়ারপোর্টের রানওয়ে থেকে বিমানটিকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রায়পুর বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট ম্যানেজার রাকেশ সহায় জানিয়েছেন, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের (বাংলাদেশ) ওই বিমানটির পার্কিং ফি বাবদ এর মধ্যেই ৬০ লাখ রুপিরও বেশি বকেয়া আছে। কিন্তু বহু বার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও তারা নাকি ওই ফি মেটায়নি, এমনকি বিমানটি ফিরিয়ে নেওয়ারও কোনও গরজ দেখায়নি।

এ ঘটনার সূত্রপাত প্রায় তিন বছর আগে, ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট। সেদিন ঢাকা থেকে ওমানের ম্যাস্কটগামী ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমান (ইউবিডি ৩২১) ভারতের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় মাঝ-আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়লে রায়পুর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। তখন জানা যায়, আকাশ থেকেই ওই বিমানের ইঞ্জিনের একটি যন্ত্রাংশ খুলে পড়ে বেমেতারা নামে একটি জায়গায়, চাষের ক্ষেতে।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের পাইলট তখন নিকটবর্তী রায়পুর বিমানবন্দরে ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি চান। বিমানে তখন যাত্রী ও বিমানকর্মীসহ মোট ১৬৫ জন আরোহী ছিলেন। তাদের নিয়ে বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করে। পরে ওই বিমানের সব আরোহীকে অন্যভাবে গন্তব্যে পাঠানোর ব্যবস্থা হয়।

কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ ওই বিমানটি সেদিন থেকেই পড়ে ছিল রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ এয়ারপোর্টের রানওয়ের এক পাশে। মাঝে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের কর্মকর্তারা নাকি কয়েকবার ঘুরেও গেছেন, কিন্তু বিমানটি ফিরিয়ে নেওয়ার কোনও ব্যবস্থা হয়নি।

ইতোমধ্যে রায়পুরের বিমানবন্দরে ব্যস্ততা বেড়েছে। বছর তিনেক আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি বিমান সেখানে ওঠানামা করে। কিন্তু একটি বিকল বিমান সেখানে একটি পার্কিং স্পেস দখল করে রাখায় অসুবিধা হচ্ছিল বলে জানাচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এর পরই তারা সিদ্ধান্ত নেন, পরিত্যক্ত ওই বিমানটিকে পার্কিং লট থেকে বিমানবন্দরের পশ্চিম প্রান্তে অব্যবহৃত একটি জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হবে।

ভারতের এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এএআই) ওই বিকল বিমানটি সরানোর পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করে। রায়পুর এয়ারপোর্টের ম্যানেজার রাকেশ সহায়ের তত্ত্বাবধানে ভারতের এয়ার ইন্ডিয়ার প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদরা ওই বিমান সরিয়ে নেওয়ার অপারেশন সম্পন্ন করেন।

শুক্রবার দুপুরে বিমানটিকে যখন সরানো হয়, তখন ইনায়েত হোসেন ও শুভঙ্কর ব্যানার্জি নামে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের দুজন প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের একজন সংস্থার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ইঞ্জিনিয়ারিং) ও অন্যজন কলকাতায় সহকারী জেনারেল ম্যানেজার পদে কর্মরত।

কিন্তু বিমানটি কেন এত দিনেও ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়নি, সে ব্যাপারে বাংলাদেশের ওই এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

loading...