গাইবান্ধায় ভাঙছে নদী, কাঁদছে মানুষ

সুমন কুমার বর্মন, গাইবান্ধা: গাইবান্ধা সদর উপজেলায় কামারজানিতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পরেছে নদী পাড়ের মানুষ। ফলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিলেও যুবতী মেয়েদের নিয়ে পড়েছেন বিড়ম্বনায়। গরু, ছাগল হাঁস-মুরগী অল্পমূল্যে বিক্রি করতে পারলেও ঘর-বাড়ির আসবাপপত্র সরিয়ে নেওয়ার আগেই বাড়ি-ভিটা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন নদী পাড়ের মানুষগুলো।

gaibandha newsশুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গেলে দেখাযায়, ঐতিহ্যবাহী কামারজানি বন্দরের ১’শ গজ উত্তরে গোঘাট গ্রাম। আর এই গ্রামটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য বসত-বাড়ি। আর এসব বসত-বাড়িতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। অথচ গ্রামটিকে রক্ষার কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি স্থানীয় প্রশাসন। শুধু তাই নয় নদী ভাঙন দেখার কথা যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তারাও সঠিক তদারকী করেনি। ফলে গ্রামটি গিলে ফেলেছে ব্রহ্মপুত্র। এখন যেসব বসত বাড়ি রয়েছে তারাও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছেন। কেউ বা বসত বাড়ির গাছ কাঁটছেন, কেউ বা টিনের ছাউনি খুলছেন। অনেকে আবার শেষ সম্বল ঘরটি যত্মসহকারে সরিয়ে নিতে সম্মিলিত ভাবে কাজ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সামিউল ইসলাম জানান, গত তিন বছর আগেও গ্রামটিতে ছিল প্রায় ১০’হাজার মানুষের বসবাস। সন্তানদের শিক্ষার জন্য ছিল একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নামাজ পড়ার জন্য ছিল মসজিদ, প্রার্থনার জন্য ছিল মন্দির। এছাড়া প্রতি বছর গ্রামটিতে আয়োজন করা হতো বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের। কতই না আনন্দের ছিল গ্রামটি কিন্তু এখন সেটি ব্রহ্মপুত্রের অভিসাপে নির্জীব।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন,শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী ভাঙন রোধে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করে না। নদীতে পানি আসলেই তারা বালির বস্তা ফেলে নদী ভাঙন রোধে দায়সারা কাজ করে আর আমাদের যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়েই যাচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, যেখানে ১’হাজার বালির বস্তা ফেলা দরকার সেখানে তারা ১/২’’শ বালির বস্তা ফেলেই কাগজ কলমে ১’হাজার লেখেই রাখছেন। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার সেসব জায়গা ভেঙে গিয়ে বসত বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল জানান, যে ভাবে নদী ভাঙছে তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সর্ম্পন্ন গোঘাট গ্রাম বিলিন হয়ে যাবে। সেই সাথে নতুন নতুন এলাকা বিলিন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, কামারজানির নদী ভাঙন রোধে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এখনও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে ভাঙন রোধে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে।

news portal website developers eCommerce Website Design