সিরিয়ার সরকারি স্থাপনায় হামলা নিয়ে বিশ্বনেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়ার সরকারি স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে বিশ্বনেতারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ কেউ মার্কিন মিত্রদের এ হামলাকে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ বলেছে। আবার কেউ কেউ মনে করছে, এটা ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে জঙ্গিদের পুনঃবিস্তার ঘটাবে। বিশ্বনেতাদের এসব প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হল-

অ্যাঞ্জেলা: জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল এ হামলায় সমর্থন দিয়ে বলেন, সিরিয়া সরকারকে ভবিষ্যতে আর কখনও রাসায়নিক হামলা না করার বিষয়ে সতর্ক করতে এ হামলা ‘প্রয়োজনীয় এবং যথাযথ’ কাজ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মিত্র আমেরিকা, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে আমরা তার সমর্থন করছি।’ সিরিয়া আর সাহস পাবে না।

এরদোগান: সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দেশটির অমানবিক তাণ্ডবের ‘সঠিক জবাব’ ছিল বলে মনে করছে তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বলেন, ত্রিদেশীয় হামলা এই বার্তা দিচ্ছে যে গণহত্যার জবাব প্রশ্নবিদ্ধ থাকে না। আরও কয়েক বছর আগে নিরীহ সিরিয়াবাসীর রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়ার দরকার ছিল।’

নেতানইযাহু: ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এ হামলার সমর্থন করে জানিয়েছেন, সিরিয়া এখন থেকে আতঙ্কে থাকবে। তিনি আরও বলেন, ‘রাসায়নিক হামলার বিষয়ে এক বছর আগেও আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলাম। এক বছর পরে এসে সে সিদ্ধান্ত এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।

খামেনি: সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ‘অপরাধ’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বলেন, ট্রাম্প, ম্যাত্রেঁদ্ধা তেরেসা অপরাধী। এর মাধ্যমে কোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। শনিবার রুহানি আরও বলেন, ‘এ হামলা অপরাধ ছাড়া আর কিছু নয়। আমি পরিষ্কারভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীকে অপরাধী বলছি।’

করবিন : যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন এ হামলার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। যুদ্ধবিরোধী এ নেতা বলেন, ‘বোমা জীবন বাঁচাতে বা শান্তি ফেরাতে পারবে না। এই অভিযানের আইনগত বৈধতা নেই এবং এতে ভবিষ্যতে ঝুঁকি আরও বাড়াবে। তেরেসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুজুগে নাচছেন বলেও মন্তব্য করেন করবিন।

গুতেরেস: জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস বলেছেন, সিরিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে মারাত্মক হুমকি। শনিবার এক বিবৃতিতে একথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে সিরিয়া ইস্যুতে তিনি জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি এমন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান, যাতে সিরীয় জনগণের দুর্দশা আরও খারাপের দিকে না যায়।