রোনালদোর ‘সিক্স প্যাকে’র অনুসারী বাংলাদেশের ফুটবলাররা

bangladesh football teamস্পোর্টস ডেস্ক: কী সুঠাম দেহ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর! যেমন তাঁর পায়ের পেশিগুলো, তেমনই সুগঠিত বাহু। রোনালদোর সিক্স প্যাক দেখানো হাল্ক উদ্‌যাপন দেখা গেল এই কদিন আগে। জুভেন্টাসের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে নাটকীয় জয় এনে দিলেন যখন রিয়াল মাদ্রিদকে। বাংলাদেশের পেছাতেই থাকা ফুটবল নিয়ে আর দশটা হাহাকারের মধ্যে আছে ফুটবলারদের এমন পেটানো শরীর না থাকা। নিকট অতীতে কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলারের বেঢপ পেট আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও উপহাসের উপলক্ষ এনে দিয়েছিল।

তবে একেবারেই হতাশ বা নাক সিটকানোর কিছু নেই। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলেই বেশ কজন তরুণ আছেন; অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে যাঁরা আদর্শ ফুটবলারের শরীর গড়ে তুলেছেন। রোনালদোর শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে তাঁদের তুলনা করা অবশ্যই বোকামি। কিন্তু নিজেদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই এঁরা শরীরের যত্ন নিচ্ছেন।

এখনকার ফুটবলে শরীর ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে তাঁরা পুরোপুরি রোনালদোর অনুসারী।লাওসের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আগে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি), কাতার ও থাইল্যান্ড মিলিয়ে প্রায় দেড় মাস অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। এর মধ্যে কাতারে ছিল দুই সপ্তাহের বিশেষ কন্ডিশনিং ক্যাম্প। শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সেখানকার জিমনেসিয়ামের আধুনিক সুযোগ-সুবিধাগুলোই কাজে লাগিয়েছেন ফুটবলাররা।

নতুন পর্তুগিজ ফিটনেস ট্রেনার মারিও সিমাওয়ের অধীনে অনেক পরিশ্রম করেছেন জাফর, বিপলুরা। প্রায় প্রতিদিনই ছিল এক সেশন জিম। হাড়ভাঙা খাটুনিতে অনেকের নাকের জল চোখের জল এক হওয়ার দশা হয়েছিল। তবে থেমে না গিয়ে নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়েই তৈরি হয়েছেন তাঁরা। লাওসের বিপক্ষে মাঠেও তো তার প্রমাণ পাওয়া গেছে কিছুটা। ২-০ গোলে পিছিয়ে তরুণ জাফর ও সুফিলের শেষ মুহূর্তের গোলে ২-২ ব্যবধানে ড্র। প্রায় ১৭ মাস পরে আন্তর্জাতিক ম্যাচে মাঠে নেমে যে ড্র বাংলাদেশের কাছে ছিল জয়ের সমান!
সদ্যবিদায়ী কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ড ও মারিও দলের মধ্যে সবচেয়ে বড় যে পরিবর্তনটি এনেছিলেন, তা হলো খাদ্যাভ্যাসের। প্রায় দেড় মাসের অনুশীলন ক্যাম্পে পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল মিষ্টিজাতীয় খাবার। এমনকি চা বা কফিতেও চিনি নয়। মসলাজাতীয় খাবারও ছিল ফুটবলারদের নাগালের বাইরে। খুবই অল্প পরিমাণে ভাত খাওয়ার অনুমতি ছিল। যত পারো খাও মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম।

ক্যাম্পের এমন হাড়ভাঙা খাটুনি ও কঠিন খাদ্যাভ্যাসের কথা শুনিয়েছেন জাতীয় দলের হয়ে গত ম্যাচে অভিষিক্ত বিপলু আহমেদ, ‘ক্যাম্পের শুরু থেকেই প্রচুর জিম করেছি আমরা। ফিটনেস ভালো রাখার জন্য খাবার টেবিলেও আমাদের অনেক নিষেধাজ্ঞা ছিল। মিষ্টিজাতীয় খাবার তো একেবারেই নিষেধ। যার ফলও আমরা পেয়েছি।’
কিন্তু এমন ফিটনেস ধরে রাখাই আসল। লাওসের বিপক্ষে ম্যাচের পর এখনো পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন ওর্ড। নতুন কোচ কে হবেন, তা-ও এখনো ঠিক হয়নি। ট্রেনার মারিও অলস সময় কাটাচ্ছেন বাংলাদেশে। তাঁর অধীনে কেন ক্যাম্প শুরু হচ্ছে না, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফুটবলাররা।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কোনো জিম নেই। বড় ক্লাবগুলোরও জিম নেই। নিজ তাগিদেই দুশ্চিন্তাটা বেশি ফুটবলারদের।