মার্কিন পার্লামেন্টে জেরার মুখোমুখি জাকারবার্গ, দায় স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনা

ডেস্ক রিপোর্ট: মার্কিন পার্লামেন্টের ডাকে সাড়া দিয়ে উচ্চকক্ষের ৪৪ আইনপ্রণেতার মুখোমুখি হলেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মার্ক জাকারবার্গ। বিপুল পরিমাণ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য চুরির ঘটনায় তাকে সিনেটে তলব করা হয়েছিল। প্রথমে প্রতিনিধি পাঠানোর কথা জানালেও ১০ এপ্রিল, বুধবার মার্কিন সিনেটের সামনে হাজির হন তিনি। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আইনপ্রণেতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তথ্য ফাঁসের ঘটনার দায় স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা দলের সঙ্গে যুক্ত যুক্তরাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ফেসবুকের ৫ কোটি গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবহার করেছে। খবরটি আটলান্টিক মহাসাগরের দুইপাড়েই আলোড়ন তোলে। কয়েক দিনের মাথায় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নিজেই অতিরিক্ত ৩ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরির নতুন তথ্য দেয়। ৮ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরির ঘটনায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশই ফেসবুকের প্রধান নির্বাহীর কাছে কৈফিয়ত তলব করে।

পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ‘হাউজ অব কমন্স’এ ফেসবুক নিয়ে নিজের যুক্তি তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠাতা জাকারবার্গ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এদিন সিনেটের বিচার ও বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটির ৪৪ সদস্যের মুখোমুখি হতে হয় জাকারবার্গকে। সিনেটরদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার আগেই তাদের সামনে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ফেসবুক এবং তার পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করেন জাকারবার্গ। তিনি তথ্য ফাঁসে ব্যবহৃত হওয়া ফেসবুক টুলস নিয়ে বলেন, ‘ওইসব টুলসের অপব্যবহার রোধে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা ব্যর্থ হয়েছি যথাযথভাবে আমাদের দায়িত্ব পালনে। এটা একটা বড় ধরনের ভুল। এটা আমারই ভুল এবং আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’