ভারতীয় ‘ফর্মুলায়’ বাঘ গণনা শুরু

tigerডেস্ক রিপোর্ট: সুন্দরবনের খুলনা ও শরণখোলা রেঞ্জের দুটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের ৪৭৮ বর্গকিলোমিটার এলাকায় আজ (মঙ্গলবার) থেকে বাঘ গণনা বা পরিবীক্ষণ শুরু হয়েছে। এবার বাঘ গণনায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হচ্ছে।সঠিক বাঘের পরিসংখ্যান জানতে এবার ভারতীয় ফর্মুলা কাজে লাগানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি ভারতের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে বাংলাদেশের বন অধিদপ্তরের ৪ ডিএফও অংশগ্রহণ করেছেন বলেও জানিয়েছে বনবিভাগ।

বন বিভাগ আরো জানিয়েছে, এবার ২৩৯টি পয়েন্টের গাছ বা খুঁটির সাথে ৬৭০টি ক্যামেরা বসিয়ে এ বাঘ মনিটরিং করা হবে। এর আগে প্রথম দফায় ২০১৩ সালে সুন্দরবনের ২৬ শতাংশ এলাকায় ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে বাঘ শুমারি হয়েছিল। ওই সময় বাঘের উপস্থিতি বেশি এমন এলাকা বেছে নেয়া হয়েছিল। এরপর দ্বিতীয় দফায় ২০১৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজ হয়।

এবার খুলনা ও শরণখোলা রেঞ্জে মনিটরিং শেষ হওয়ার পর তিনটি রেঞ্জের ফলাফল এক সঙ্গে আগামী বছরের (২০১৯ সাল) প্রথম দিকে প্রকাশ করা হবে। তখনই জানা যাবে সুন্দরবনে বাঘের প্রকৃত অবস্থান।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্ত (ডিএফও)মাহামুদ হাসান জানান, বাঘ গণনায় এবার কিছুটা পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ভারতের সুন্দরবন অংশে যেভাবে বাঘ গণনা করা হয় সেই ফর্মুলায় এবার বাঘ গণনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গত ১৫ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প দপ্তরের অধীন সজনেখালী রেঞ্জ অফিসে এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

মাহামুদ হাসান আরো জানান, ‘এ প্রশিক্ষণ শিবিরে তিনিসহ যোগ দেন বাংলাদেশের বন অধিদপ্তরের ৩ ডিএফও বসিরুল আল মামুন, মাহাবুর রহমান ও মদিনুল হাসান। এ সময় পশ্চিমবঙ্গের প্রধান মুখ্য বনপাল রবিকান্ত সিনহা, ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউশন অব ইন্ডিয়ার বিশিষ্ট বিজ্ঞানী কামার কুরেশি, ব্যাঘ্র প্রকল্প দপ্তরের ফিল্ড ডিরেক্টর নীলাঞ্জন মল্লিক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা বন বিভাগের ডিএফও তৃপ্তি সা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ শিবিরটি গত ১৭ জানুয়ারি শেষ হয়।

ভারতীয় ফর্মুলা ব্যাখা করতে গিয়ে মাহামুদ হাসান বলেন, ‘এ ফর্মুলা অনুযায়ী এবার ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। আগে সুন্দরবনের ৫ কিলোমিটার অন্তর ক্যামেরা বসানো হলেও এবার ২ কিলোমিটার অন্তর ক্যামেরা বসানো হবে। এরফলে বাংলাদেশের সুন্দরবন অংশে বাঘের সঠিক সংখ্যার পাশাপাশি পুরো সুন্দরবন (বাংলাদেশ ও ভারত) অংশের বাঘের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।

এদিকে, খুলনা সার্কেল বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, সর্বশেষ ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে বাঘ গণনা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের মার্চে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৬টি। তাই বর্তমানে সুন্দবনের বাঘের সংখ্যা, অবস্থান ও গতিপ্রকৃতি জানতেই এবারের মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মদিনুল আহসান জানান, এবারে বাঘের সংখ্যা গণনার পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ করা হবে বাঘ যেসব প্রাণী খায় সেগুলোর অবস্থাও। বাংলাদেশসহ ভারত, নেপাল ও ভুটানে একই সঙ্গে শুরু হচ্ছে বাঘ পরিবীক্ষণ। বাঘ রক্ষায় ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য করা হচ্ছে এই মনিটরিং।

সেভ দি সুন্দরবনের চেয়ারম্যান ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বাঘ মনিটরিং কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন, ‘এ কাজে দেশি গবেষকদের সম্পৃক্ততা থাকা উচিত ছিল। তাহলে বাঘ রক্ষায় ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সহজ হতো।