খালেদাকে কারান্তরীণের বিচার করা হবে: ফখরুল

ঢাকা: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নির্জন কারাগারে পাঠিয়ে সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করায় তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি একথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে খালেদা জিয়াকে একটি পরিত্যক্ত ও নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক আইনেও নারী বন্দিদের নির্জন কারাগারে রাখা যাবে না বলা আছে।’

তিনি বলেন, ‘আজ অবৈধ সরকার সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রাজনৈতিকভাবে তারা দেওলিয়া হয়ে গেছে। এজন্যই তারা খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ প্রায় ১৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশনেত্রীকে কারাগারে নিয়ে সরকার মনে করেছে, মানুষকে স্তব্ধ করা যাবে, দমিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু, সেটা করা যাবে না। দেশের মানুষই কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনবে। কারণ, তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। এখনও রাজপথে নামলে তার পেছনে লাখ লাখ মানুষ থাকেন।’

অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমাদের সংবিধান, জেলকোডে যে নিয়ম-কানুন আছে, সব কিছুর বরখেলাপ করে বেগম জিয়াকে নির্জন কারাগারে রাখা হয়েছে। আমরা আইনি মোকাবেলা করছি। কিন্তু, তাকে যদি মুক্ত করে আনতে চান, তাহলে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘সরকার বিচারের নামে প্রহসন করে ইচ্ছাপূরণ করেছে। আমরা সুবিচার পাইনি। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। তাই আইনিভাবে মোকাবেলা করছি। তারেক রহমানের নির্দেশে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। এই আন্দোলনেও পুলিশ বাধা দিচ্ছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘বিএনপিতে ভাঙন ধরানোর ক্ষমতা বাংলাদেশের কারও নেই। অনেকে ভেবেছেন কিছু একটা হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ, কিছুই হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী বানিয়েছিলাম। আর সরকার তাকে কিংবদন্তি নেলসন ম্যান্ডেলা বানিয়ে দিয়েছে। এজন্য আপনাদের ধন্যবাদ দিতেই হবে।’

সকাল ১১টা ১০ মিনিটে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে বিএনপির পূর্বঘোষিত অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এতে সভাপতিত্ব করেন। কড়া পুলিশ বেষ্টনীর মধ্যেই অবস্থান কর্মসূচিতে সকাল থেকেই হাজারো নেতাকর্মী অংশ নেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, জয়নাল আবেদীন ফারুক, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূইয়া, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকু প্রমুখ।

এছাড়া ২০-দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে এলডিপির শাহাদত হোসেন সেলিম, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈশা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিজিপির আব্দুল মতিন সাউদ প্রমুখকে কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে।