নোংরা রাজনীতির শিকার এমপি স্বপনের ছেলে শুভ, দাবি পরিবারের

suvoস্টাফ রিপোর্টার, যশোর: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার যশার-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্যর ছেলে সুপ্রিয় ভট্টাচার্য শুভ মনে করছে মণিরামপুরের রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোংরা খেলায় মেতেছেন ওই রাজনৈতিক মহল। তারা যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য্যর জনপ্রিয়তাকে ঈর্ষাণিত হয়ে এই অপপ্রচারে নামেছে বলে দাবি তার পরিবারের।

শুভর মা তন্দ্রা ভট্টাচার্য বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাকেও নোংরা রাজনীতির কারণে ঘায়েল করতে এসব করা হয়েছে বলে এমপি স্বপন অনুসারীরা মনে করছেন।

এমপি পরিবার জানান, এমপি স্বপন ভট্টাচার্যকে হেনস্তা করার জন্য রাজনৈতিক মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তাদের প্রশ্ন কিভাবে এ খবর সাংবাদিকদের কাছে গেল? কারা খবর নিয়ে বেশি উৎসাহ দেখিয়েছে ? থানা পুলিশ যদি রেট দেবে তাহলে ডিবি পুলিশের নাম কেন বলা হলো ? ইত্যাদি।
তবে এ ব্যপারে ডিবি পুলিশের কোন বক্তব্য গণমাধ্যমে আসেনি। ওই সব গণমাধ্যমে ডিবি পুলিশের কারো কোন বক্তব্য ছাপেনি।

খবরে বিশ্লেষনে জানা যায়- সোমবার হোটেল সিটি প্লাজার ম্যানেজার শেখ সাইফুল ইসলাম জানান, পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী হোটেল কক্ষে নারী থাকার বিষয়টি থানায় অবহিত করা হয়। এরপর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) শামসুদ্দোহা কক্ষটি থেকে শুভ ও সাবরিনকে আটক করে নিয়ে যান।
তবে ওসি অপারেশন শামসুদ্দোহা হোটেল থেকে কাউকে আটকের কথা স্বীকার করেননি।

মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোকাররম হোসেন সোমবার সাংবাদিকদের জানান, এএসআই সাবরিনা তার থানায় কর্মকর্তা রয়েছেন। ওই দিন এসপি অফিসে ব্যক্তিগত কাজে ও পাসপোর্ট করার জন্য দুপুর ১২টার সময় সিসি নিয়ে যশোর যান।

সোমবার যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন সিকদার সাংবাদিকদের জানান, একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা অফিস অর্ডার ছাড়া হোটেলে গিয়েছিলেন। কী কারণে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন তা খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।
তবে এমপির ছেলে শুভকে আটক করা হয়েছে, এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই বলে দাবি করেন এডিশনাল এসপি।

এদিকে সোমবারের পর মণিরামপুরের রাজনীতিতে নানা রকম কথাবার্তা চলছে। প্রশ্ন উঠেছে হোটেল সিটি প্লাজার মালিক ইয়াকুব আলী আগামী সংসদ নির্বাচনে মণিরামপুর থেকে নির্বাচন করতে চান। যে কারণে ইতিমধ্যে তিনি এলাকায় দানবীর হিসেবে নানা রকম প্রচার ও কার্যক্রম চালাচ্ছেন। গেল ঈদে তিনি পুরো উপজেলাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তার ব্যানার ফেস্টুর পুরো উপজেলা জুড়ে শোভা পাচ্ছে। এসব কারণে প্রশ্ন উঠেছে ষড়যন্ত্রের সাথে ইয়াকুব আলীও যুক্ত কিনা ? কারণ সেদিনের ভিডিও ফুটেজ সাংবাদ কর্মীরা হোটেল থেকে সংগ্রহ করার জন্য হোটেলে দেনদরবার করলেও তারা কোন ফুটেজ দেননি।

এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা মনোনয়ন লাভের আশায় এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ এক সময় এমপি স্বপন ভট্টাচার্যের সাথে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তাকে কিভাবে হেনস্তা করা যায় তার জন্য বিভিন্ন সময় নানা রকম ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে এমপি স্বপন ভট্টাচার্যকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে না পেরে সামাজিকভাবে হেনস্তা করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।