কেশবপুরে পিতার মৃত্যুর ঘটনায় ৪ ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

জাহিদ আবেদীন বাবু, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামের সাবেক মেম্বার শেখ তমেজউদ্দীনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধে সন্তানরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ওই বৃদ্ধের ছোট ছেলে মিজানুর রহমান বাদি হয়ে সহোদর ৪ ভাইকে আসামী করে গত ৮ জানুয়ারী থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সন্ন্যাসগাছা গ্রামের সাবেক মেম্বার শেখ তমেজউদ্দীনের (৭০) ওয়ারেশ হিসেবে ৫ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। ইতোপূর্বে ওই বৃদ্ধের ছোট ছেলে মিজানুর রহমানের প্রাপ্য অংশের কিছু জমি সহোদর ৪ ভাই পিতাকে ভুল বুঝিয়ে তাদের নিজ নামে দলিল করে নেয়। এরপরও অর্থলোভী ওই ৪ সন্তান বৃদ্ধ পিতার অবশিষ্ট জমি ও অর্থ সম্পদ ছোট ভাইকে ফাঁকি দিয়ে লিখে নেয়ার জন্যে দীর্ঘদিন ধরে গভীর ষড়যন্ত্রসহ পিতাকে হত্যার চেষ্টা চালিযে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বেশ কিছুদিন আগে ছোট ছেলে মিজানুর রহমানের বাড়ি থেকে তাঁর বৃদ্ধ পিতাকে মেঝ ভাই ফজলুর রহমান নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। গত ৮ জানুয়ারী দুপুরে মিজানুর রহমান গৌরীঘোনা বাজার থেকে জানতে পারেন তাঁর পিতা শেখ তমেজউদ্দীন মারা গেছে। তাৎক্ষণিক মিজানুর রহমান বাড়িতে গিয়ে তাঁর পিতার লাশ মেঝ ভাই ফজলুর রহমানের দোতলা বসতবাড়ির বারান্দায় মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
মিজানুর রহমান অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তাঁর সহোদর ৪ ভাই পরিকল্পিতভাবে জমি ও অর্থ আত্মসতের লক্ষ্যে বৃদ্ধ পিতা শেখ তমেজউদ্দীনকে মুখে বালিশ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। তাঁর পিতার মৃত্যু অস্বাভাবিক হওয়ায় তিনি বাদি হয়ে থানায় অভিযোগটি করেছেন। আসামীরা হলো বজলুর রহমান (৫২), ফজলুর রহমান (৪৮), ইউনুস আলী (৩৭) ও নজরুল ইসলাম (৪৪)।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (চলতি দায়িত্ব) শাহাজান আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, মৃতের এক পুত্র তার পিতার মৃত্যুর বিষয়ে সন্দেহ পোষন করায় মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্নয়ে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আপাতত থানায় অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।