অনুমোদন পেল টাওয়ার শেয়ারিং নীতিমালা

ডেস্ক রিপোর্ট: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সচিবালয়ে তার দফতরে অফিস করার প্রথমদিনেই (বৃহস্পতিবার) টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স নীতিমালা এবং ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) নীতিমালা অনুমোদন দিয়েছেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, মোবাইল অপারেটররা কেউ এ নিলামে অংশ নিতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে আসতে হবে নতুন প্রতিষ্ঠানকে। ২০১৬ সালে যত্রতত্র টাওয়ার তৈরির প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণে আনতে বিটিআরসি এ নীতিমালা তৈরি করে। টাওয়ার শেয়ারিং নীতিমালা অনুমোদনের ফলে মোবাইল ফোনের টাওয়ার নির্মাণ, ব্যবস্থাপনা সর্বোচ্চ চারটি বিশেষায়িত টাওয়ার কোম্পানির হাতে ন্যস্ত হবে। ‘বিউটি কনটেস্ট’ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে এ লাইসেন্স দেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর আগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও তাতে পরিবর্তন এনে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা একটি বাড়ানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানের কাছে দেয়ার বিধান রেখে ২০১৬ সালে টাওয়ার শেয়ারিং গাইডলাইনের খসড়া তৈরি করে তা অনুমোদনের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠায় বিটিআরসি। পরবর্তী সময় এটি সংশোধন করে আবারও পাঠানোর জন্য বিটিআরসিকে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের জুনে অনুষ্ঠিত কমিশনের বিশেষ সভায় নীতিমালাটি সংশোধন করা হয়। এতে লাইসেন্সের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় তিনটি। এ ছাড়া লাইসেন্স ফি ৫০ কোটি ও বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৫ কোটি টাকা ধরা হয়। টাওয়ার কোম্পানিতে বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয় ৬০ শতাংশ, যদিও এর আগে নীতিমালার খসড়ায় এ সীমা ৪৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এরই মধ্যে অপারেটররাও প্রায় প্রত্যেকে আলাদা টাওয়ার কোম্পানি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের অনুমোদন আগেই পেয়েছে রবি আজিয়াটা ও এয়ারটেল বাংলাদেশ। আর কোম্পানি গঠনের আবেদন করেছে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, টাওয়ার ব্যবস্থাপনার লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি সেলফোন অপারেটরদের নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগির ভিত্তিতে টাওয়ার ব্যবহারের কার্যক্রম কমিয়ে আনতে হবে। টাওয়ার কোম্পানি লাইসেন্স পাওয়ার পর প্রথম বছর দেশের সব বিভাগীয় শহরে মোবাইল ফোন অপারেটরদের ভাগাভাগির ভিত্তিতে টাওয়ার ব্যবহারের সেবা বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয় বছর জেলা শহরগুলো, তৃতীয় বছর ৩০ শতাংশ উপজেলা, চতুর্থ বছর ৬০ শতাংশ উপজেলা ও পঞ্চম বছর দেশের সব উপজেলায় অপারেটরদের দেয়া এ সেবা বন্ধ করতে হবে। এ সময়সূচি অনুযায়ী টাওয়ার কোম্পানিগুলোও সংশ্লিষ্ট এলাকায় তাদের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করবে।

নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি অনেক জনবলেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
এ ছাড়া টাওয়ারের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা ভূমি ও বিদ্যুতের সংকট ছাড়াও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এসব কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টাওয়ার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে নিজেদের সরিয়ে আনছে অপারেটররা। এ ক্ষেত্রে অবকাঠামো ভাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সেবা নিয়ে থাকে তারা। ফলে একই অবকাঠামো ভাগাভাগির মাধ্যমে তা থেকে সেবা পেতে পারে একাধিক অপারেটর।

প্রসঙ্গত, দেশে অপারেটরদের মধ্যে অবকাঠামো ভাগাভাগির সুযোগ তৈরিতে ২০০৮ সালে ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং গাইডলাইন করা হয়, যা ২০১১ সালে সংশোধন করা হয়। এ নীতিমালার আওতায়ই অপারেটররা পরস্পরের টাওয়ার ভাগাভাগির মাধ্যমে ব্যবহার করছে। ভূমি ও জ্বালানির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালন ব্যয় কমিয়ে আনার উদ্দেশ্যেই দিকনির্দেশনামূলক এ নীতিমালা করা হয়। তবে এতে কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় তা অনুসরণ করেনি অপারেটররা।