যশোরে দলীয় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত আ’লীগ নেতার মৃত্যু

jessore lig newsস্টাফ রিপোর্টার: যশোরের দলীয় প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত আওয়ামী লীগ নেতা সরদার মিলন মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) দিনগত রাতে তিনি ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবস্থায় মারা যান। তিনি বসুন্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পদ্মবিলা গ্রামের ফরহাদ হোসেন ওরফে বাবুর ছেলে।

গত ৬ নভেম্বর যশোরের দড়াটানায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হাজী মুহম্মদ মহসিন রোডে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাত এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক আহত হয়েছিলেন সরদার মিলন।

বসুন্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল আহসান বাবলু জানিয়েছেন, দলীয় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত মিলনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় ডাক্তারের পরামর্শে তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার রাতে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বুধবার দুপুরে নামাজে জানাজা শেষে পদ্মবিলা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।

সদর পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর মতিউর রহমান জানিয়েছেন, বেঁচে থাকাকালে সরদার মিলন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছিলেন। এজাহারে মিলন সরদার উল্লেখ করেছিলেন, ৬ নভেম্বর যশোর শহরের দড়াটানায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ সমাবেশ হয়। ছাত্রলীগ নেতা ইমন হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত ওই সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন মিলন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে পদ্মবিলা ফিরছিলেন। হাজী মুহম্মদ মহসিন রোডের মুখে দাঁড়ানো মাত্র ১০-১৫ জন তাকে তাড়া করে। তিনি ওই রোডের একটু ভেতরে ঢোকামাত্রই সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট ও ছুরিকাঘাত করে। তিনি অজ্ঞান হয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা মৃত ভেবে চলে যায়। পরে তাকে আশপাশের লোকজন উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ডাক্তারের পরামর্শে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি অজ্ঞাত ১০-১৫ বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা করেন। এর পর ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে ৩ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে যান এবং হাসপাতালে ভর্তি হন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মতিউর রহমান বলেন, ‘মামলাটি হয়েছিল মারপিট করে জখম করার অপরাধে। এখন চার্জশিট হবে হত্যা মামলার।’