বাহরাইনে তিন-চার মাস বেতন পাচ্ছেন না শ্রমিকরা, দূতাবাসে ভিড়

ডেস্ক রিপোর্ট: বাহরাইনের নিম্নমানের কাজ থেকে উচ্চ পর্যায়েও কর্মরত আছেন বাংলাদেশিরা। তবে বেশির ভাগ রয়েছেন নির্মাণ কাজে।এক কথায় বলা যেতে পারে বাহরাইন বাংলাদেশের তৈরি (মেইড বাই বাংলাদেশ)।

একটা সময় প্রচুর কর্মী প্রবেশের কারণে সেখানে নির্মাণ শ্রমিকের আধিক্য বেড়ে যাওয়ায় কাজের সংকট দেখা দিয়েছিল। কিন্ত চলতি বছরের প্রথম দিকে যাচাই-বাছাই করে ভিসা দেওয়া হয়। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের উপর। বেড়ে যায় কাজের পরিমাণ। নির্মাণ কাজ সহ অন্যান্য কাজে দক্ষ শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাহরাইনের প্রত্যেক এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। আর দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা দেখিয়ে দেওয়ালে দেওয়ালে ও শ্রমিক সরবরাহ অফিস গুলোতে লাগানো হয়েছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।

এদিকে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পড়ছে বাহরাইনের সকল ক্ষেত্রে।

যার ফলে নির্মাণ শ্রমিকরা ৩-৪ মাস ধরে পাচ্ছেনা তাদের পারিশ্রমিক। শুধু নির্মাণ কাজে নয়,অন্যান্য কাজেও বেতন ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেন না শ্রমিকরা। তাই পাওনা আদায়ে নিজ নিজ অফিস ও বাংলাদেশ দূতাবাসে শত শত শ্রমিক ভিড় করছেন প্রতিনিয়ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও শ্রমিকদের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছে দিন রাত অবিরাম। বেতন আদায় সহ নানা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিভিন্ন কোম্পানি আর শ্রমিক সরবরাহকারীদের ( সাপ্লাই মালিকদের) সাথে দৈনিক ৪/৫ টা বৈঠক নিয়মিত কর্মসূচীতে পরিণত হয়েছে। চেষ্টার চরম পর্যায়ে দূতাবাসের সহযোগীতা নিয়ে পাওনা আদায়ে অনেকে আদালতের শরনাপন্ন হয়েছেন।

কুমিল্লার দাউদ কান্দির ফারুক জানান, তাকে একই এলাকার হযরত নামের এক লোক চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি চার লাখ টাকার বিনিময় ভাল কাজের কথা বলে নিয়ে আসে এবং মিউনিস কনস্ট্রাকশন নামে একটি(সাপ্লাই) অফিসের অধীনে কাজে দেন। তিনি বলেন ৫ মাস ধরে কোন বেতন না পেয়ে দূতাবাসের সহযোগীতায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। এক মুঠো খাবার আর একটু থাকাই বর্তমানে বড় সমস্যা। আর মামলার ব্যায়ভার বহন করাতো মোটেও সম্ভব হচ্ছেনা। এখন কি করি ভেবে পাচ্ছিনা। কারন ভিসাও বাতিল করে দিয়েছে মালিক পক্ষ।

একই কোম্পানির কিশোর গঞ্জের শাহ আলম,ফেনীর দাগন ভূঁঞার নিজাম, এছাড়া সুলতা ও নাহিদের ও একই অবস্থা । নাঙ্গলকোটের এছাক ও চৌদ্দ গ্রামের আলম জানান, আমরা একটা শ্রমিক সরবরাহকারী অফিসের অধীনে কাজ করে ৪ মাস ধরে বেতন পাচ্ছিনা। দেশে ঋণের বোঝা দিন দিন বাড়ছে। এখানে কাজ আছে, কাজ করেও বেতন পাচ্ছিনা। প্রতিষ্ঠান পরিচালক বলছে কিছু টাকা ইতিমধ্যে পরিশোধ করবে।

নাছির নামের এক শ্রমিক বললেন, কিছু কিছু লোক কোম্পানি থেকে চেক পাওয়ার পর শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ না করে নিজেদের কাজে ব্যবহার করে আর শ্রমিকদের চেক না পাওয়ার অজুহাতে হয়রানি করেন। এ দিকে শ্রমিক সরবরাহকারীরা দোষারোপ করছেন ঠিকাদার কোম্পানি গুলোকে। তারা বলছে কোম্পানি চেক দিচ্ছেনা আবার কোন কোন কোম্পানি চেক দিলে ও টাকা জমা করছেনা।

টেব মেকানিক্যাল কন্ট্রাক্টিং এর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক আল মামুন জানান, কোম্পানি ৯৬ হাজার দিনার ( ২ কোটির অধিক টাকা) চেক পাতা দিয়েছে কিন্তু টাকা জমা করছেনা। তবুও আমি শ্রমিকদের ৪০ হাজার দিনার (৮৮ লাখ টাকা) পরিশোধ করেছি।

ওরিসা কনস্ট্রাকশনের পরিচালক আলাউদ্দিন বলেন, বর্তমানে আমি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গুলোর নিকট ১ লাখ ৫০ হাজার দিনার (৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা) পাওনা আছি। এমন অজুহাত মানতে নারাজ বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ।

তারা বলেন শ্রমিকরা যার কাজ করবে তার কাছ থেকে পাওনা বুঝে নিবে। শ্রমিক সরবরাহকারী( সাপ্লাই) কোথায় থেকে দিবে আর কোম্পানি পরিশোধ করল কি করলনা সেটা শ্রমিকরা দেখার কথা নয়। ব্যাবসা করতে পুঁজি লাগে। তবুও আমরা যদি কোন কাজে সহযোগীতা করার প্রয়োজন হয় করব। আমাদের সহযোগীতা অব্যাহত আছে।

লেবার কাউন্সিলর ( প্রথম সচিব শ্রম) শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজারের মত লোক বেকার থাকলেও পরিস্থিতি আগের তুলনায় বর্তমানে উন্নতি হয়েছে। তিনি দেশ থেকে কাজ শত ভাগ বুঝে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন সবাইকে।