শীতের ফ্যাশনে রাখতে পারেন কাশ্মীরি শাল

dressলাইফস্টাইল ডেস্ক: কাশ্মীরি শালের বিশেষত্ব হচ্ছে এটা তৈরি হয় পশমিনা ছাগলের লোম থেকে। হিমালয় পর্বতে এদের বাস। প্রচণ্ড শীত এবং কঠোর আবহাওয়ার বিরুদ্ধে টিকে থাকার জন্য এদের শরীরে বিশেষ এক ধরনের লোম গজায়। এই ছাগলের লোমগুলো অনেক নরম এবং মানুষের চুলের চেয়ে ছয় গুণ মসৃণ। এই লোম সংগ্রহ করে তৈরি হয় কাশ্মীরি শাল।

কাশ্মীরি শালের কাপড় খুবই উন্নত মানের। এই কাপড়গুলো খুব হালকা এবং শীতের জন্য খুবই উপযুক্ত। তবে বর্তমান বাজারে কৃত্রিম পলিস্টারের এক প্রকার কাপড় ‘পশমিনা’ নামেই বিক্রি হচ্ছে যার বাণিজ্যিক নাম দেওয়া হয়েছে ‘অথেন্টিক ভিসকোস পশমিনা’ যা কাশ্মীরি শাল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু আসল কাশ্মীরি শাল এর চেয়ে অনেক সুন্দর এবং এক একটি তৈরি হতে এক বছরের ওপর সময় লাগে।

কাশ্মীরি শাল তৈরি দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। তাই বর্তমান বাজারে কাশমিরি সালে সিল্কের কিছুটা মিশ্রণ পাওয়া যায়। যেমনঃ শতকরা ৫০ ভাগ কাশ্মীরি এবং ৫০ ভাগ সিল্ক। আবার কিছু আছে ৭০ ভাগ কাশমিরি এবং ৩০ ভাগ সিল্ক। তবে শতকরা ১০০ ভাগ বিশুদ্ধ কাশ্মীরি বাজারে এখনো পাওয়া যায়।

কাশ্মীরি শাল যেমন সুন্দর তেমন অভিজাত একটি পোশাক। তবে অভিজাত পোশাক হলেও এর বাজার মূল্য সেই তুলনায় অনেক কম। শীতের জন্য উপযুক্ত এই কাপড়গুলো অনেক টেকসই এবং পরতে পারবেন কয়েক বছর ধরে। আর এই পোশাক যে আরও অনেক বছর ফ্যাশনে রাজত্ব করবে সেই ব্যাপারে নিশ্চিত থাকাই যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক শপিং মলসহ বিভিন্ন অনলাইন শপে কাশমিরি শাল পাওয়া যায়। তবে এর সবচেয়ে বড় কালেকশনটি রয়েছে ঢাকার নিউ মার্কেটে। এছাড়া প্রতিবার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার অন্যতম আকর্ষণগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে বিখ্যাত এই শাল। এর মূল্য সাধারণত ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।

কাশ্মীরি শাল যেমন সমগ্র বিশ্বে বিখ্যাত তেমন এটা আমাদের অনেক ঐতিহ্য বহন করে। সম্রাট আকবর এই শিল্পকে আরও অনুপ্রাণিত করেছিলেন এবং সেসময়ে তিনি ইংল্যান্ডের রাণী ইলিজাবেথকে একটি শাল উপহার হিসেবে দিয়েছিলেন। এই শাল আরও অনেক জনপ্রিয়তা পায় যখন নেপোলিয়ন এটি সম্রাট জোসেফাইনকে উপহার দিয়েছিলেন।

কাশ্মীরি শালের প্রথম রেকর্ড পাওয়া যায় ষোড়শ শতাব্দী থেকে। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে ফেব্রিক বার্নিয়ারের বিবরণে পশমিনা শালের উল্লেখ আছে যা পরবর্তীতে কাশ্মীরি শাল নামে পরিচিতি পায়। এরপরের শতকের শেষাংশে মহারাজা রণবীর শিং এর শাসনামলে এর উৎপাদন কমে যায়। কিন্তু উনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপে এর জনপ্রিয়তা ও চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং সকলের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে এই শিল্পকে নতুন উদ্যমে চালু করা হয়।
সূত্র: কেএন