নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীনদের ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছে বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আরেকটি ‘এক তরফা’ নির্বাচন করার জন্য এখনই ‘ষড়যন্ত্র’ শুরু করেছে সরকার। তবে এবার ক্ষমতাসীনদের ষড়যন্ত্র ‘সফল’ হতে দেবে না বিএনপি। দলটির নীতি নির্ধারণী ফোরামের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

বিএনপি নেতাদের দাবি, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতই আরেকটি ‘এক তরফা’ নির্বাচন করে ক্ষমতায় থাকতে চায় আওয়ামী লীগ। যে কারণে এখন থেকে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে তারা। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ‘মিথ্যা’ মামলা নিয়ে ‘এক তরফা’ নির্বাচন করে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চাইছে ক্ষমতাসীনরা। যার অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটার পর একটা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটার পর একটা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা বরাবরই বলে আসছি। তাদের (ক্ষমতাসীনরা) উদ্দেশ্যেটাই হচ্ছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মত আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। শুধু তারা নিজেরাই নির্বাচন করতে চায়। সেই জন্য অত্যন্ত উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করছে।’

তিনি বলেন, ‘ডাক্তারের সমস্ত সার্টিফিকেট জমা দেওয়া আছে। খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে আছেন। এমতাবস্থায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে এতে বুঝা যায় তাদের উদ্দেশ্যটা কী।’
বাংলাদেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকাকে অপমান ও মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে কটুক্তি করার অভিযোগে দায়ের করা মানহানির মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে গত সোমবার কুমিল্লার আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা। ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় একটি নৈশকোচে পেট্রলবোমা হামলায় ৮ যাত্রী নিহত ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় জেলা ও দায়রা জজ বেগম জেসমিন আরা এ আদেশ দেন।

হঠাৎ করেই কেন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হচ্ছে এমন প্রশ্নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এতো দিন মামলাগুলো পড়ে আছে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার প্রয়োজন মনে করল না। হঠাৎ করে ম্যাডামের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হচ্ছে। এতেই বুঝায় ২০১৪ সালের মত বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে বাইরে রাখার ষড়যন্ত্র করছে সরকার।’

এবার সরকারের ষড়যন্ত্র সফল হবে না বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সরকারবিরোধী দলের উপর ক্র্যাকডাউন চালাচ্ছে। ভয়ভীতি ও শঙ্কা সারাদেশে ছড়িয়ে তারা একক রাজত্ব কায়েম করতে চাচ্ছে। তাই এখন কোনো আন্দোলন নেই, নির্বাচন নেই, নেই কোনো কর্মসূচি। তারপরও হঠাৎ সরকার তাদের নির্যাতন ও জুলুমের ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠায় বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে। রিমান্ডের নামে নির্যাতন করছে।’

তিনি বলেন, ‘একমাত্রিক রাষ্ট্র-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে উঠেপড়ে লেগেছে সরকার। নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আগে নির্বাচন হতো জনগণের ইচ্ছায় নির্বাচন কাঠামো অনুসরণ করে আর এখন তারা চাচ্ছে নির্বাচন হবে তাদের একক ইচ্ছায়।’

এদিকে কুমিল্লার একটি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে রাজপথের কর্মসূচিতে ‘সক্রিয়’ হচ্ছে বিএনপি। গত বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। ঢাকায় তেমন সাড়া না পেলেও সারাদেশের জেলা মহানগরীতে ‘পুলিশি বাধা’ উপেক্ষা করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে দলটির নেতাকর্মীরা।

এছাড়া বৃহস্পতিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে যুবদল ও ছাত্রদল।

এ বিষয়ে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান বলেন, ‘ম্যাডামের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যেমূলকভাবে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে সারাদেশে জেলা, মহানগর এবং থানা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করব।’
যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নিরব জানান, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে শনিবার জেলা এবং মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে যুবদল। খবর পরিবর্তন ডটকম।