প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়ায় খুশি ফখরুল

ঢাকা: মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিলম্বে হলেও প্রধানমন্ত্রী দেখতে যাওয়ায় খুশি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দশম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তুরস্কের ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলেন এবং মঙ্গলবার প্রথম জাতিসংঘ থেকে একটা বড় মানবাধিকার টিম আসছেন তারা সেখানে যাবেন। অর্থাৎ সারা বিশ্ব যখন সোচ্চার হচ্ছে, এ গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধে এবং মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল যখন নিরাপত্তা পরিষদকে চিঠি দিয়েছেন, তখন প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার গেলেন উখিয়াতে। আমরা শুনে অন্তত এটুকু খুশি হলাম যে, এত দিনে তার বোধদয় হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে পার্লামেন্টে সোমবার মিয়ানমারকে চাপ দেয়ার প্রস্তাব নেয়া হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকারের এ গণহত্যার কোনো নিন্দা প্রস্তাব করেননি, গণহত্যার জন্য কেনো নিন্দা জানান নাই। আমরা আজকে এ সভা  থেকে নিন্দা জানাচ্ছি আপনারা যারা এ নিন্দা প্রস্তাব নিতে সাহস করেন নাই।

মিয়ানমার সীমান্তে মাইন পোঁতা ও বাংলাদেশের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় সরকারের নীরব ভূমিকার সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব।

মিয়ানমার সীমান্তে দুই দেশের যৌথ অভিযান প্রস্তাবের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গ ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করতে চায় সরকার। তারা প্রস্তাব দিয়েছে, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও বাংলাদেশের বিজেবি যৌথভাবে টহল দিয়ে অভিযান চালাবে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কার বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে? যাদের হত্যা, ধর্ষণ, শিশুদের  মেরে  ফেলা, যাদের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে  দেয়া হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে? আমরা খুব পরিষ্কার ভাষায় জানাতে চাই, আমরা মিয়ানমারের গণহত্যাকে সম্পূর্ণভাবে নিন্দা জানাই, ধিক্কার জানাই। মিয়ানমার সরকারকে বলছি তারা যেন অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধ করে।

সভায় সংগঠনের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের সভাপতিত্বে ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস  চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল  নোমান, বরকতউল্লাহ ‍বুলু, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন  চৌধুরী এ্যানী, আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহসভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, মহানগর নেতা এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, শফিকুল ইসলাম মল্টিন, গোলাম মাওলা শাহিন প্রমুখ।