স্মার্টফোন কেনার আগে যা জানা জরুরি

প্রযুক্তি ডেস্ক: প্রযুক্তির উত্কর্ষতায় স্মার্টফোন এখন আমাদের নিত্যসঙ্গী। যোগাযোগ, ছবি তোলা, ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা, ইন্টারনেট ব্রাউজিং প্রভৃতি কাজে আমরা স্মার্টফোন ব্যবহার করি।
কিন্তু বাজারে আছে নানা ধরনের স্মার্টফোন। ফলে আমাদের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম সেরা ফোনটি বাছাই করা একটু কঠিনই বটে। স্মার্টফোন কেনার সময় যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা খুবই জরুরি।

ডিসপ্লে : যদি ভিডিও স্ট্রিমিং, ফটো বা ভিডিও এডিট বা ডাউনলোড এবং মুভি দেখার কাজ করতে চান তাহলে ৫.৫ ইঞ্চি থেকে ৬ ইঞ্চি ডিসপ্লেযুক্ত স্মার্টফোন কিনুন। ফুল এইচডি বা কিউএইচডি রেজ্যুলেশনই এ ক্ষেত্রে আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে। ৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে হলে তা বহন করা অসুবিধাজনক হবে এবং ওজনও বেশি হবে।

প্রসেসর : ওএস ভার্সন, ইউআই, ব্লটওয়্যার প্রভৃতির ওপর ভিত্তি করে স্মার্টফোনের প্রসেসিং পাওয়ারও বিভিন্ন হয়ে থাকে।

আপনি যদি ভারি কোনো কাজ করতে চান, যেমন, ছবি/ভিডিও /ডকুমেন্ট অনলাইনে এডিট করা, ভারি কোনো গেমস খেলা, ভিডি স্ট্রিমিং বা প্রায়ই সিপ্লট মোডে অ্যাপস ব্যবহার করার কাজ করতে চান তাহলে সবচেয়ে ভালো হবে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২ বা স্ন্যাপড্রাগন ৮২০/৮২১ প্রসেসরযুক্ত স্মার্টফোন।

ক্যামেরা : মেগাপিক্সেলের সংখ্যা বেশি হলেই যে স্মার্টফোনের ক্যামেরা ভালো হবে এমনটা নয়। এ ক্ষেত্রে ক্যামেরার অ্যাপারচার, আইএসও লেভেল, পিক্সেল সাইজ, অটোফাকাস এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও গুরুত্বপূর্ণ। একটি ১৬ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা একটি ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা থেকে ভালো হবে এমন কোনো কথা নেই। ফ্রন্ট ক্যামেরার বেলায়ও একই কথা।

পিক্সেলের সংখ্যা বেশি হওয়ার মানে হলো ছবির আকার বড় হবে। যে ছবি ছোট স্ক্রিনে আরও বেশি স্পষ্ট দেখা যাবে। আপনি যদি একজন আবেগী ফটোগ্রাফার হন তাহলে আপনার জন্য দরকার ১৬ বা ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা যার সেন্সরটি হবে এফ/২.০ এর নিচে বা আরও কম যাতে দ্রুতগতিতে শট নেওয়া যায়। শখের ফটোগ্রাফির জন্য ৮ বা ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা। সেন্সরটি হবে এফ/২.০ থেকে এফ/২.২ অ্যাপারচারের।

ব্যাটারি : ইউজারভেদে ব্যাটারিও ভিন্ন ভিন্ন হয়। আপনি যদি ভারি ইউজার হন এবং অ্যাপসে কাজ করা, গেমস খেলা, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং অন্যান্য ভারি কাজ করা দরকার হয় তাহলে আপনাকে কিনতে হবে ৩৫০০ এমএএইচ বা এর বেশি এমএএইচ ব্যাটারিযুক্ত স্মার্টফোন। আর আপনি যদি হালকা ইউজার হন তাহলে আপনার জন্য ৩০০০ এমএএইচ এর ব্যাটারিযুক্ত স্মার্টফোনই যথেষ্ট যা একবার চার্জ করলে সারাদিন চলবে।

ইউজার ইন্টারফেস/ওএস ভার্সন : স্মার্টফোন কেনার সময় এ দুটি জিনিসও যাচাই করে দেখতে হবে। কোনো কিছুতে প্রবেশের জন্য এ ইন্টারফেসগুলোর সঙ্গে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করতে হয়। ফলে এটি হতে হবে সহজ এবং সরল। তবে ওইএম এর স্মার্টফোনে ব্লটওয়্যার এবং কিছু অ্যাপস আছে যেগুলো হয়তো এর আগে ব্যবহার করেননি। এ ধরনের হ্যান্ডসেটও কিনতে পারেন।

স্টোরেজ : ১৬জিবি/৩২জিবি/৬৪জিবি বা আরও বেশি স্টোরেজযুক্ত স্মার্টফোনের পুরোটাই খালি থাকে না। বরং আগে থেকেই এতে যে ওএস এবং অ্যাপস ইনস্টল করা থাকে তাতেই বিশাল অংশ ভরে যায়। আপনি যদি আপনার ফোনে স্বল্পসংখ্যক অ্যাপস রাখতে চান তাহলে ৩২জিবি স্টোরেজযুক্ত স্মার্টফোন কিনতে পারেন।

আর যারা একটু বেশি সংখ্যক অ্যাপস রাখতে চান তাদের জন্য উচিত হবে ৬৪জিবি বা ১২৮জিবি স্টোরেজ সুবিধাসম্পন্ন স্মার্টফোন কেনা।