রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় লেবু

leamonস্বাস্থ্য ডেস্ক : লেবুর আদি উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে সঠিক কোনো ধারণা পাওয়া যায় না। তবে ধরে নেওয়া হয়, এর আদি উৎপত্তিস্থল ভারত। প্রথম শতাব্দীতে চীন ও মিয়ানমার হয়ে ইউরোপে প্রবেশ করে। ৫৮ গ্রামের একটি খোসাবিহীন কাঁচা লেবু থেকে ১৭ ক্যালরি, ০.৬ গ্রাম প্রোটিন, ০.২ গ্রাম ফ্যাট, ৫.৪ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর ৫১% এবং সামান্য পরিমাণে থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন, প্যানটোথেনিক এসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ পাওয়া যায়।

১৮ শতকে রয়েল নেভিতে স্কার্ভি প্রতিরোধে লেবুর প্রচলন শুরু হয়- এ কথা কমবেশি সবাই জানে। তবে মজার বিষয় হলো রোমান সম্রাট নিরো দেহে শত্রুর বিষের ক্রিয়া প্রতিরোধের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ লেবু গ্রহণ করতেন। কারণ লেবু প্রাকৃতিকভাবে রক্ত পরিশোধক এবং এটি দেহ থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে।

ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে সামান্য পরিমাণে ক্ষারীয় ভারসাম্য বজায় রখতে হয়। স্বাদে অম্লীয় হওয়া সত্ত্বেও লেবু অন্যতম ক্ষারীয় খাদ্য, যা আমাদের দেহে ক্ষারীয় ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া দেহকে রশ্মির প্রভাবমুক্ত রাখতে লেবুর রস কাজ করে। তাই কেমোথেরাপির পর নিয়মিত লেবুর রস পান করা হলে দেহে বিদ্যমান রেডিও অ্যাকটিভ উপাদানগুলো দূর হয়।

কাঁচা লেবুর রস খাবারের পর গ্রহণ করলে রক্তের শর্করার ওপর এটি প্রতিক্রিয়া করে, রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস করে।

লেবুর খোসায় বিদ্যমান পেকটিন ফাইবারের ভালো উৎস, যা মেদবহুল ব্যক্তিদের মেদ কমাতে সাহায্য করে।

লেবু ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ, এটি ক্যালসিয়াম শোষণে ভূমিকা রাখে ও অস্টিওপোরোসিসের সাথে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে। এক গ্লাস গরম পানিতে দুই টেবিল চামচ কাচা লেবুর রস মিশ্রণ করে গর্ভাবস্থায় পান করা হলে গর্ভস্থ শিশুর হাড় মজবুত হয়।

লেবুর রস একটি উৎকৃষ্ট ডাই-ইউরেটিক। তাই দেহ থেকে ব্যাকটেরিয়া ও বিষাক্ত উপাদান দূর করে রিউমেটিজম ও আর্থাইটিসের চিকিৎসা করে।

কাঁচা লেবুর রসে পটাশিয়াম থাকে, যা স্নায়ুকোষ ও মস্তিষ্ককে কাজ করতে সহায়তা করে, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে, মনকে শান্ত রাখে। লেবুর সাইট্রিক এসিড যে কোনো ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কার্যকর ওষুধ। লেবু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-এর উৎকৃষ্ট উৎস ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি হিসেবে কাজ করে। তাই রিউমেটিক জ্বর, গিট বাতের জন্য লেবু উপকারী।

লেবুর ব্যাকটেরিয়াবিরোধী গুণের জন্য এটি গলার ইনফেকশন, বদহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য, জ্বর, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, পোড়া, স্থুলতা, শ্বাসকষ্ট, কলেরা, উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় এটি কার্যকর। লেবুর রস ইউরিনারি সাইট্রেট তৈরির মাধ্যমে ক্রিস্টালের উৎপত্তিতে বাধা দেয়। ফলে কিডনিতে পাথর সৃষ্টি বাধা পায়।

দাঁতের ব্যথাযুক্ত স্থানে লেবুর রস প্রয়োগ করা হলে দাঁত ব্যথা কমে যায়। মাড়িতে লেবুর রস ঘষে দিলে মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়, একই সাথে মাড়ির রোগ থেকে সৃষ্ট দুর্গন্ধও দূর হয়।

চুল পড়া প্রতিরোধে, খুশকি দূর করতে, চুল ও মাথার চামড়ার অন্যান্য রোগের চিকিৎসায় লেবুর রস উপকারী। চুলের চকচকে ভাব বৃদ্ধিতেও এটি ব্যবহৃত হয়। ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। তাই চামড়ার কুচকে যাওয়া, ব্রণ ও অন্যান্য দাগ দূর করে। দৈনিক অর্ধেক লেবুর রস গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

লেবুর মতো বহুবিধ উপকারী খাদ্য আর নেই বললেই চলে। একে তাই ফলের রাজ্যের ‘সুইস আর্মি নাইফ’ বলা হয়।