ঢাবিতে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

du jcdঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আহ্বান করা উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়ার সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে ছাত্রদলের এক নেতা আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

ছাত্রদলের আহত ওই নেতার নাম ওমর ফারুক মামুন। তিনি মুহসীন হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাস্টার্সের ছাত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের কিছুক্ষণ আগে ছাত্রদলের ঢাবি সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সংগঠনটির ২৫ থেকে ৩০ জন নেতাকর্মী জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির সামনের সড়কে জড়ো হন। সেখান থেকে তাঁরা মধুর ক্যান্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিষয়টি জানতে পেরে ঢাবির মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সানী, সূর্য সেন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাহিদ হাসান শাহীন, এস এম হলের সভাপতি তাহসানসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে অবস্থান নেন। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে এলেই তাঁদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে পালিয়ে যান। সেখানে গিয়ে ছাত্রদলের নেতা মামুনকে একা পেয়ে লাথি, কিল-ঘুষি মারতে থাকেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর তাঁরা তাঁর পায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, ‘আমরা ডাকসুর দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আহ্বানে মধুর ক্যান্টিনে আসতেছিলাম। কিন্তু ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা করে। তাদের হামলায় আমাদের এক কর্মী আহত হয়েছেন।’

এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তাঁর নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ডাকসু নির্বাচনের বিষয়ে আজ মধুর ক্যান্টিনে উন্মুক্ত আলোচনার আহ্বান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁদের এ আহ্বানে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

হামলার প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিবৃতি
মুহসীন হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক মামুনের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান।

এক বিবৃতিতে এই দুই নেতা বলেন, ‘ছাত্রদল যখনই কোনো যৌক্তিক দাবি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চকণ্ঠ হয়েছে, তখনই বিশ্ববিদ্যালয়ের নতজানু প্রশাসন এবং তার লাঠিয়াল বাহিনী ছাত্রলীগ শকুনের মতো ছাত্রদল নেতাকর্মী ও নিরীহ ছাত্রদের ওপর বর্বরভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশকে ধ্বংসের মুখে ফেলে দিচ্ছে।’