যাদের নাম হয় তাদের বদনামও হয় : নাসির

nasirস্পোর্টস ডেস্ক: একই মুদ্রার দুটো পিঠই দেখতে হয় নাসির হোসেনকে। বাংলাদেশ জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ হচ্ছে না। তারপরও এই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেটার তিনি। ক্রিকেটভক্তদের দারুণ ভালোবাসায় সিক্ত সবসময়। আবার উল্টো দিকে নানা সমালোচনায় নিয়মিত জর্জরিত হতে হয়ে তাকে। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ থাকে শৃঙ্খলা নিয়ে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরীক্ষিত এই ব্যাটসম্যান  ক্রিকেটার ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রান করলেও আলোচনা থাকে ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়েও। তবে কোনো সমালোচনাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন না নাসির। সোজা সাপটা জানিয়ে দিলেন, নাম করলে কিছু বদনামও মাথা পেতে নিতে হবে।

রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যথারীতি দলের সাথে অনুশীলনে ছিলেন নাসির। অনুশীলন শেষে কথা বললেন উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে। তার বিরুদ্ধে নানা সময়ে প্রচলিত নানা অভিযোগ আর সমালোচনার প্রসঙ্গটি ওখানেই উঠে আসে। কেন এমন হয়? এমন প্রশ্নে নাসির বেশ বিচক্ষণতার সঙ্গেই ব্যাট করলেন। অনেকটা দার্শনিকের মতো করেই বললেন, ‘ যাদের নাম হয় তাদের বদনামও হয়। এটা সত্য কথা। আলোচনা সমালোচনা বলতে, আপনি আমাকে এক চোখে দেখবেন আরেকজন আমাকে আরেক চোখে দেখবে। আমার চোখ দিয়ে তো আমি সবাইকে এক চোখে দেখতে পারব না। আর সত্যি বলতে আমি পেপার পড়ি না। ফেসবুক থাকা না থাকা একই কথা। শুধু তো সবার ব্যক্তিগত নিউজ আর নিউজ।’

২০১৬ সালে একবার খবর হলো, বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের মন্তব্য নিয়ে। দেশের ক্রিকেট অভিভাবক নাকি বলেছিলেন, নাসিরের ১২টি মোবাইল ও ৮০টি গার্লফ্রেন্ড, সে ক্রিকেটে মন দেবে কিভাবে? খবরটা গুজব হিসেবে রঙ ছড়ালো। হইচই সারাদেশে। নাসিরের আচরণ ও শৃঙ্খলাবোধ নিয়েও তখন ওই সংবাদে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। বিসিবি প্রেসিডেন্ট নিজে পরে বলেছিলেন, ওটা বানোয়াট সংবাদ। কিন্তু সোশাল মিডিয়ার যুগে এখনো টাইমফিডে নাসির প্রসঙ্গে এখনো ওসব ঘুরে ফেরে।

কিন্তু এমন নেতিবাচক কথা বা নিন্দা কোনোকিছু নাকি স্পোর্টিং নাসিরের ওপর প্রভাব ফেলে না। দাবিটা তার নিজেরই, ‘আপনি যখন খেলাধুলা করেন তখন এসব কিছু আপনার মাথায় থাকে না। খেলার বাইরে মাঝে মাঝে আসে কথাগুলো। খেলার মধ্যে এসব জিনিস আসে না।’

তবে যতই সমালোচনা হোক জনপ্রিয়তায় দেশের শীর্ষ তারকাদের একজন নাসির। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে তার প্রতি ভালোবাসা ফুটে ওঠে চোখে পড়ার মতো করে। নাসির নিজেও খুব জানেন ও বোঝেন এসব। এ জনপ্রিয়তার কোনো ব্যাখ্যাই নেই নাসিরের কাছে, তবে ভক্তদের জন্য আছে বুক ভরা ভালোবাসা, ‘আমি জানিনা কেন মানুষ আমাকে ভালোবাসে। এটা মানুষের কাছ থেকে আমার বড় পাওয়া। এ জিনিসটা সবাই পায় না। আমি সে জিনিসটা পেয়েছি। আমি তাদের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ।’

আর নাসিরও চাচ্ছেন ভক্তদের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে। জাতীয় দলে আবার নিয়মিত হয়ে নিজের মিস্টার ফিনিশার নামটাকে গোটা ক্যারিয়ারের জন্য প্রতিষ্ঠিত করে ফেলতে। তাই সর্বোচ্চ চেষ্টায় নিজের কাজটা করে যাচ্ছেন ধারাবাহিকভাবে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজকে সামনে রেখে চলমান কন্ডিশনিং ক্যাম্প নিয়ে দারুণ সিরিয়াস নাসিরের প্রত্যয়ী উচ্চারণ, ‘তারা আমার উপরে যে বিশ্বাস রাখে, অনেক আশা করে, আমি চেষ্টা করব সেই বিশ্বাস ও আশাটা রাখার জন্য। সেটাই করার জন্য এ অনুশীলন ক্যাম্প, ফিটনেস ক্যাম্প। চেষ্টা করছি জাতীয় দলে ঢোকার জন্য।’ এবারের ফার্স্ট ক্লাস লিগের পর ঢাকা লিগে আরো এক্সট্রা অর্ডিনারি ব্যাটিংয়ে নাসির কিন্তু আবার একাদশে সুযোগ পাওয়ার দাবিটা জোরালো করেই রেখেছেন।