কেশবপুরের সেই ভুয়া সনদের শিক্ষকরা জেলা শিক্ষা অফিসারের বাসায় ধর্ণা দিচ্ছেন!

স্টাফ রিপোর্টার,যশোর: যশোরের কেশবপুরে ভুয়া সনদে কর্মরত একই পরিবারের দুই শিক্ষক দম্পতির বিরুদ্ধে তদন্ত কমটি গঠন করায় তারা দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন। গত ১৪ ও ১৫ জুলাই সরকারি ছুটির দিনে তারা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বাসায় গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন  ওই ৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
নির্ভরযোগ্যসুত্রের দাবি, কেশবপুরের তেঘরী দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার কম্পিটারের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, তেঘরী পল্লী মঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটারের শিক্ষক আনিচুর রহমান ও একই প্রতিষ্ঠানে কৃষি বিষয়ের শিক্ষক মর্জিনা খাতুন  এবং বগা দাখিল মাদ্রাসার কম্পিউটারে শিক্ষক মামুদা খাতুন জাল সনদে চাকরির বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের নিদের্শে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটিকে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করতে বলে হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। তরা ওই জালিয়াতি শিক্ষকদের সনদ দেখতে চাইলে ভুয়া সনদ না দিয়ে ধুরন্ধর ওই দুই শিক্ষক দম্পতি নানা তালবাহানা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুত্রবলছে, তঘরী পল্লী মঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটারের শিক্ষক আনিচুর রহমাানের নিবন্ধন সনদ জাল। পরে নিবন্ধন পাশ করা একটি সনদ তিনি প্রতিষ্ঠানে জমা করে রেখেছেন।

কিন্তু আগের জালিয়াতি সনদেই তিনি ইনডেক্স  প্রাপ্ত হয়ে বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন। একই প্রতিষ্ঠানে কৃষি বিষয়ের শিক্ষক মর্জিনা খাতুন কৃষি ডিপ্লোমা শেষ হওয়ার আগেই কৃষি ডিপ্লোমা পাশ করা সনদে চাকরিতে যোগদান করে বেতন ভাতা তুলছেন।তেঘরী দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার কম্পিটারের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান অনার্স পাশের একটি ভুয়া সনদপত্র জোগাঢ় করে চাকরি করছেন। বগা দাখিল মাদ্রাসার কম্পিউটারে শিক্ষক মামুদা খাতুন কোন নিয়োগ কমিটি ছাড়াই ভুয়া নিয়োগ দেখিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে দুর্নীতি দমন কমিশন বাদী হয়ে মামলা করলে গ্রেফতার এড়াতে মামুদা খাতুন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

সুত্রবলছে, জেলা শিক্ষা অফিসের তদন্ত কমিটি ওই ভুয়া সনদের শিক্ষকদের কয়েক দফা তলব করলে তারা ওই ভুয়া সনদ বাদে অন্যান্য সনদ দাখিল করেছেন।এছাড়া অবস্থা বেগতিক দেখে।

গত ১৪ও ১৫ জুলাই সরকারি ছুটির দিনে তারা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম টুকুর বাসায় ধর্ণা দি্েচ্ছন। এছাড়া সনদ জালিয়াতির নিযোগ সম্পন্নকারী কেশবপুরের সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার তাদের রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন স্থানে দেনদরবার করে তদন্ত কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্থ করার চেষ্টা করছেন। তবে বিষয়টি অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে সরকারি এক গোয়োন্দাসংস্থা ও দুদক। তারা বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছে।

এদিকে ছুটির দিনে গোপনে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বাসায় ওই জালিয়াতি শিক্ষকেরা ধর্ণা দেয়া হতাশ হয়ে পড়েছেন  ওই ৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা সঠিক তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে নানা সংশয় প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে এক জন শিক্ষক জানান, তদন্ত চলাকালে আনিচ- মোস্তাফিজ দম্পতি জেলা শিক্ষা অফিসারকে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে সঠিক তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে। (ওই দুই শিক্ষক দম্পতির জালিয়াতি সনদের কপিগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।)