পুরোনো রূপে কাটার মোস্তাফিজ

স্পোর্টস ডেস্ক : মোস্তাফিজ বাংলাদেশের এক বিস্ময়কর বালক। সারা বিশ্ব তাকে কাটার বয় বলে চিনে। সারা বিশ্বকে অনেক বার তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে কি হয়েছিলো মোস্তাফিজের তার আগুন ঝরানো বলিং যেন হারিয়ে গিয়েছিলো।

আইপিএল-এ এক ম্যাচ খারাপ বল করার জন্য বাকি ম্যাচ গুলো মাঠের বাইরেই থাকতে হয়েছে এই কাঁটার বয়কে। তার সময়টা যে খারাপ যাচ্ছিল তা দেখেই বোঝা যায়। তবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দেখা গেছে তার কিছু পুরোনো ঝলক। যা আভাস দিচ্ছে তার পুরোনো রূপে ফেরার। তার প্রমাণ মিলেছে গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ ওভার বোলিং করে দিয়েছেন ৩৩ রান। নিয়েছে দুইটি উইকেট।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজে অনেক লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত হারের হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। ফলাফল নিয়ে হয়তো সন্তুষ্ট হতে পারবেন না বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা। তবে হেরে যাওয়া ম্যাচেও একটা ব্যাপার নিশ্চিতভাবেই আশাবাদী করে তুলবে সবাইকে। সেটি হলো মোস্তাফিজের বোলিং। বেশ কিছুদিন পর আবার দেখা গেছে মোস্তাফিজের পুরোনো ঝলক। বাঁহাতি পেসের দুর্দান্ত কাটার-ইয়র্কার দিয়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের নাজেহাল করেছেন ফিজ।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বয়স খুব বেশি হয়নি মোস্তাফিজুর রহমানের। মাত্র দুই বছর হলো শুরু করেছেন ক্রিকেট অভিযান। তবে এই অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁহাতি পেসের যে ভেল্কিগুলো দেখিয়েছেন, তাতে শোরগোল পড়ে গেছে ক্রিকেটবিশ্বে। গত বছরের আইপিএলের সময় পুরো ক্রিকেটবিশ্বই মেতেছিল মোস্তাফিজ-বন্দনায়। তবে ইনজুরির ছোবলে মাঝে কিছুটা সময় ম্লান হয়ে গিয়েছিলেন বাঁহাতি এই পেসার। বেশ কয়েক মাস বিরতির পর মাঠে ফিরলেও নিজেকে যেন ঠিক খুঁজে পাচ্ছিলেন না ফিজ। তাঁর বলগুলো অনায়াসেই খেলছিলেন প্রতিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানরা।

তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে দারুণ বোলিং করে পুরোনো ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন মোস্তাফিজ। ৯ ওভার বল করে দিয়েছেন মাত্র ৩৩ রান। নিয়েছেন দুটি উইকেট। বাংলাদেশ একটা সময় জয়ের স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছিল মোস্তাফিজের দারুণ বোলিংয়ের সৌজন্যে। শেষপর্যন্ত সেই কাঙ্ক্ষিত জয়টি না পেলেও মোস্তাফিজের বোলিং আশাবাদী করে তুলতেই পারে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের।

প্রথম স্পেলে বল করতে এসেই মোস্তাফিজ নিয়েছিলেন একটি উইকেট। তিন ওভারের এই স্পেলে দিয়েছিলেন মাত্র ৮ রান। ষষ্ঠ ওভারে কিউই ওপেনার লুক রনকিকে আউট করে মোস্তাফিজই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিলেন প্রথম ব্রেক-থ্রু। দ্বিতীয় স্পেল করতে এসে নিয়েছিলেন আরো একটি উইকেট। রস টেলর আর নেইল ব্রুমের জুটিটা তখন ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল। সে সময়ই নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান টেলরকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেছিলেন মোস্তাফিজ।

বাংলাদেশের অন্য বোলারদের মোটামুটি অনায়াসে খেলতে পারলেও মোস্তাফিজকে মোকাবিলা করতে বেশ কষ্টই হয়েছে ব্রুম, নিশাম, টেলরদের। বেশ কয়েকবার মোস্তাফিজের দুর্দান্ত ডেলিভারির সামনে দিশেহারা হয়ে গেছেন কিউই ব্যাটসম্যানরা। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে মোস্তাফিজের এমন আগুনঝরা বোলিং নিশ্চিতভাবেই আশাবাদী করে তুলবে বাংলাদেশের সমর্থকদের। তার আগে ত্রিদেশীয় সিরিজের আরো দুটি ম্যাচেও নিজেকে ঝালাই করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন মোস্তাফিজ।