নিউজিল্যান্ডকে ২৫৮ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

bangladesh criস্পোর্টস ডেস্ক : আরও একবার টস হার। টস হেরে আবারও প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা। তবে বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার ১৫.২ ওভারের উদ্বোধনী জুটিতেই তুলে ফেলেন ৭২। বাংলাদেশ শিবিরে তখন বড় সংগ্রহেরই স্বপ্ন। দলীয় সংগ্রহটা শুরুর সেই ইঙ্গিতের সঙ্গে মিলছে না বটে; তবে শেষ পর্যন্ত যে বাংলাদেশ ৯ উইকেট ২৫৭ রান করতে পেরেছে, সেটাই কম কিসে! কারণ জোড়ায় জোড়ায় উইকেট হারিয়ে এক পর্যায়ে ১৩২ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। এরপরও দলীয় স্কোর ২৫০ রানের কোটা পেরিয়ে যাওয়ার পেছনে বড় অবদান সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। প্রথম তিনজনই তুলে নিয়েছেন হাফসেঞ্চুরি। মোসাদ্দেক হাফসেঞ্চুরি পাননি বটে; তবে তার ৪১ বলে ৪১ রানের ইনিংসই বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে ২৫০ এর উপরে।

ডাবলিনের ক্লোনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব মাঠে টস জিতে প্রথমে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান নিউজিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম লাথাম। আয়ারল্যান্ড ম্যাচের কথা মনে করেই কিনা, এ দিন বাংলাদেশ শুরু করে সাবধানে। তবে একপ্রান্তে তামিম ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে ধরা দিলেও অন্যপ্রান্তে সৌম্য ছিলেন সাবলীল। দুজনের বিপরীত ধাঁচের ব্যাটিংয়ের সুবাদেই বাংলাদেশ পায় আশা জাগানিয়া শুরু। উদ্বোধনী জুটিতে ৭২ রান করার পরই বাংলাদেশ শিবিরে জোড়া আঘাত। ৪২ বলে ২৩ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে আউট হন তামিম। তাকে দ্রুতই অনুসরণ করেন সাব্বির রহমান। ফিরে যান মাত্র ১ রান করে। এরপর মুশফিক ও সৌম্য মিলে চেষ্টা করছিলেন দলকে টেনে তোলার। তৃতীয় উইকেটে দুজনে গড়েন ৩৮ রানের জুটি। কিন্তু এরপরই আবারও জোড়া আঘাত। এবার যুগপৎ ফিরে যান সৌম্য ও সাকিব।

দলকে ১১৭ রানে রেখে ফিরে যান সৌম্য। তার আগেই অবশ্য ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সৌম্য। ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০১৫ সালের পর যে তার প্রথম হাফসেঞ্চুরি। সৌম্যর ব্যাট ইঙ্গিত দিচ্ছিল বড় ইনিংসেরই। কিন্তু ৬১ রানে দাঁড়িয়ে হঠাৎই বিলাসী এক শট খেলতে গেলেন সৌম্য। কিউই স্পিনার ইশ সোধিকে সুইপ করতে যাওয়ার খেসারত তাকে দিতে হয়েছে আউট হয়ে। ৬৭ বলের ইনিংসে তিনি চার মেরেছেন ৫টি। সৌম্যর বিদায়ের খানিক পরই আউট সাকিব। মাত্র ৬ রান করে সাকিবও ইশ সোধিরই শিকার। এরপর দুই ভায়রা-ভাই মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ মিলে গড়েন ৪৯ রানের জুটি। এই জুটির পথেই মুশফিক তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। কিন্তু ক্যারিয়ারের ২৪তম হাফসেঞ্চুরি স্পর্শের পরপরই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন মুশফিক। দলের সংগ্রহ তখন ৫ উইকেটে ১৮১। ওভার তখন মাত্র ১২.৫টি। তখন ২৫০ করাটাকেই মনে হচ্ছিল অনেক দূরের পথ। ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেকের ৬১ রানের জুটিতে ২৫০ টপকে যেতে পেরেছে।

এক ছক্কা ৪ চারে মুশফিক ৬৬ বলে করেছেন ৫৫ রান। ৬ চারে মাহমুদউল্লাহ ৫৬ বলে করেছেন ৫১ রান। মোসাদ্দেকের ৪১ রানের ইনিংসে ছিল ৪টি চার। শেষ দিকে মুর্হূমুহু উইকেট না পড়লে দলের সংগ্রহটা আরও একটু বাড়তে পারত।

স্লো ওভার রেটের কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা থাকায় গত শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি মাশরাফি। তার পরিবর্তে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি ফিরেছেন একাদশে। দলের নেতাকে জায়গা করে দিতে একাদশের বাইরে চলে যেতে হয়েছে তাসকিন আহমেদকে। তবে রুবেল হোসেন আছেন একাদশে। ব্যাটসম্যানদের কাজ শেষ। এখান যা করার করতে হবে বোলারদের। মাশরাফি-মোস্তাফিজ-রুবেলরা পারবেন ডাবলিনের ক্লোনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব মাঠের সবুজ উইকেটে জ্বলে উঠে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে?

দুই দলের একাদশ :

বাংলাদেশ :  তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন।

নিউজিল্যান্ড : লুক রনকি, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), জর্জ ওয়ার্কার, রস টেলর, নিল ব্রুম, জেমস নিশাম, কলিন মুনরো, হামিশ বেনেট, মিশেল সান্টনার, সেথ র‍্যান্স, ইশ সোধি।