ফেসবুক লাইভে গায়কের আত্মহত্যা!

বিনোদন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসী রাজ্যে এক গায়ক ফেসবুক লাইভে নিজের শরীরে আগুন জ্বালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। শনিবারের ঘটনা হলেও দেশটির সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশ পেতে একদিন বিলম্ব হয়। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, জেরাড ম্যাকলেমোর নামের ওই গায়ক রাস্তার ধারে গাড়ি পার্কিং করার স্থানে শরীরে আগুন দেন। ৩৩ বছর বয়সী জেরাড ম্যামফিস শহরে বেশ পরিচিত।

ভিডিও প্রত্যক্ষকারীরা জানান, ফেসবুকে লাইভ চলাকালে জেরাড নিজের শরীরে কেরোসিন ঢালেন। এসময় যারা ভিডিওটি দেখছিলেন তাদের বিষয়টি ধরতে কিছুটা দেরি হয়। অনেকে প্রথমে ভেবেছিলেন তিনি সম্ভবত লাইভে কোনো ধরনের কৌতুক করছেন।

জিম ডাকওর্থ নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী সেদিন ঘটনাস্থলের কাছেই ছিলেন। তিনি জানান, জেরাড যখন শরীরে পানির মতো কিছু ঢালছিলেন তখনই তার সন্দেহ হয়। কেননা, সেসময় স্থানটি কেরোসিনের গন্ধে ভরে যায়। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জিম বলেন, ‘মুহুর্তটি যেন সিনেমার দৃশ্যের মত। কেরোসিন ঢেলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই জেরাড শরীরে আগুন দেন।’

কিম্বারলি কোয়েলার নামের সরাসরি ভিডিওটি প্রত্যক্ষ করা আরেক ব্যক্তি জানান, ‘আমার মত অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি বোধহয় শরীরে আগুন জ্বালানোর কোনো কৌশল প্রদর্শন করছেন।’ শহরের যে বারটির সামনে জেরাড আত্নহত্যা করেন সেখানেই তার সাবেক বান্ধবী কাজ করেন। ঘটনার সময় তার সাবেক বান্ধবী বারটির ভেতরেই ছিলেন বলে জানান কিম্বারলি।

জেরাডের ওই বান্ধবীকে নিয়ে ঝামেলার পূর্ব রেকর্ড অবশ্য পুলিশের কাছে আছে। ২০১৬ সালের আগস্টে এই বান্ধবীকে অত্যাচার ও হত্যার হুমকি দেয়ার অপরাধে জেরাডকে গ্রেফতারও করা হয়। পরে তাকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত মানসিক চিকিৎসার জন্য আটক রাখা হয়।

ম্যাকলেমোর পরিবার দাবি করেছে, সেই বান্ধবীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়েই আত্নহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন জেরাড। কেননা সেই বান্ধবী তার জীবনটা সমস্যায় পূর্ণ করে ফেলছিল। ভিডিওটি প্রত্যক্ষ করা অনেকেও একই মত প্রকাশ করেছেন। বান্ধবীকে শিক্ষা দিতেই জেরাড আত্মহত্যা করেন বলে তাদের ধারণা।