সাইবার হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে সন্দেহ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী মারাত্মকভাবে সাইবার হামলাকারীদের খোঁজে আছে তদন্ত সংস্থাগুলো। প্রাথমিকভাবে অনেক কিছু জানা গেলেও  এখনো চূড়ান্তভাবে কিছু জানা যায়নি তাদের সম্পর্কে।  ধারণা করা হচ্ছে যে, এ হামলার পিছনে একটি অপরাধী গোষ্ঠী জড়িত আছে, কারণ র‍্যানসামওয়ারের মাধ্যমে সাইবার হামলা করাই হয় অর্থ হাতিয়ে নেয়ার উদ্দশ্যে।

তবে তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন যে,  তারা এর পিছনে উত্তর কোরিয়ার জড়িত হওয়ার সম্ভাবনাকে ছেড়ে দিচ্ছেন না, যদিও  তথ্যপ্রমাণ এখনও পর্যন্ত অস্পষ্ট পর্যায়ে আছে।

সাইবার আক্রমণের কোডটি অনেক ক্ষতি সাধন করলেও তেমন শক্তিশালী ছিল না,  যেমন ইরানের পারমানবিক কর্মসূচি উন্নয়নে বাধাগ্রস্থ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে তৈরি করা স্ট্যাকসনেট সিস্টেমের স্কেলে ছিল না ।

একটি সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান বলেছে যে,  অর্থ প্রদান করেছে এ রকম কিছু লোক সম্পর্কে তারা জেনেছে,  তবে তাদেরকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি।

র‍্যানসামওয়ারটি ছড়িয়ে দেয়ার মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক ব্যাপার ছিল যেমন অল্প পরিমান অর্থ দাবী হয়েছে এর জন্য,  বিটকয়েনের মাধ্যমে সেটা নেয়া হয়েছে। এতদসত্ত্বেও,  ব্রিটিশ তদন্ত সংস্থার নজরে আসে যে, একাউন্টগুলো থেকে এখনো সে সব অর্থ উত্তোলন করা হয়নি। এসব একাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলনই হ্যাকারদের খোঁজ পাওয়ার অন্যতম সূত্র।

তবে এ হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে সন্দেহ করা হচ্ছে। এক সাইবার-নিরাপত্তা বিশ্লেষকের মতে, আগেও বিট কয়েনের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের জন্য এ ধরণের সাইবার হামলায় উত্তর কোরীয় গোষ্ঠিকে লক্ষ্য করা গেছে। তবে উত্তর কোরিয় নেতাকে নিয়ে সিনেমা বানানোর কারণে সনিতে সাইবার হামলা চালানো হয়েছিল। লাজারুস গ্রুপকে এর জন্য দায়ী করা হয়। উত্তর কোরিয়াও সুইফট ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে হামলার সাথে জড়িত থাকতে পারে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিপুল টাকা চুরি করা হয়েছিল। কিছু বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে লাজারুস গ্রুপের একটি অংশ  এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে ।

উত্তর কোরিয়া এ ধরণের হামলার জন্য অপেক্ষ করছিল, একইভাবে পারমানবিক কার্যক্রেমে আঘাত হানার কারণে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলো এবং আরব দেশগুলোর জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাইবার হামলা চালিয়েছিল।

তবে এটা প্রমাণিত হতে অনেক সময় লাগবে। এ সাইবার হামলাকারীদের খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং যুক্তরাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর কাজ করছে। তাঁদের ধারণা অনুযায়ী এ হামলায় সনিতে উত্তর কোরিয় হামলার মত উপাদান পাওয়া গেছে।

তবে যেই জড়িত থাক, এটা নিশ্চিত করা গেছে যে এ হামলার সাথে অনেকজন জড়িত। যাদেরকে ধরতে খোঁজা হচ্ছে এক্ষণ। সূত্র: বিবিসি