পর্নোসাইটের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে ‘র‌্যানসমওয়্যার’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভয়ঙ্কর ম্যালওয়্যার ‘র‌্যানসমওয়্যার’ বাংলাদেশেও আশঙ্কা ছড়িয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা সতর্ক রয়েছেন। তবে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩০ জনের কম্পিউটার এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

তবে দেশের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার হওয়ায় সামনে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করছেন সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা।

গেল শুক্রবার (১৩ মে) বিশ্বের ১০০টির মতো দেশে ‘র‌্যানসমওয়্যার’ ছড়িয়ে পড়ে, যাতে আক্রান্ত হয় স্বাস্থ্য ও টেলিকমসহ বিভিন্ন খাতের বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক। সোমবারও (১৫ মে) এশিয়া ও ইউরোপের নতুন করে কম্পিউটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফেসবুকভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা সহায়তাকারী সংগঠন ‘ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশনের’ উপদেষ্টা তানভীর হাসান জোহা এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মূলত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে এ ভাইরাসের আক্রমণ বেশি হয়। মোবাইল ও ট্যাবেও এ আক্রমণ হতে পারে।

আক্রান্ত হওয়ার ধরন সম্পর্কে তানভীর জোহা বলেন, সবার সমস্যা প্রায় একই ধরনের, একই প্যাটার্ন মেনে ম্যালওয়্যারটি ছড়িয়ে পড়ছে। ভাইরাসটি সাধারণত ভুয়া নিউজ লিংক, পর্নোসাইট ও ভুয়া ই-মেইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে।

তানভীর জোহা জানান, আমাদের দেশে এ পর্যন্ত ৩০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিজস্ব কম্পিউটার আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছি। সেগুলো সমাধানও করে দেয়া হয়েছে।

র‌্যানসমওয়্যারে আক্রান্ত হলে কী করে নিশ্চিত হওয়া যাবে, জানতে চাইলে এই সাইবার বিশেষজ্ঞ বলেন, র‌্যানসমওয়্যার কম্পিউটারে প্রবেশ করার পর হার্ডড্রাইভে অবস্থিত সব ফাইল একটি বড় কি দিয়ে এনক্রিপ্ট করে ফেলে। ফলে কম্পিউটার চালু করতে গেলে অটো রিস্টার্ট হবে। এনক্রিপশন কি ছাড়া (মুক্তিপণ না দিয়ে) ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ঢোকা যাবে না। কম্পিউটারে প্রবেশ করতে তিনশ-চারশ ‘বিট কয়েন’ পে করতে হবে, যার আনুমানিক মূল্য চার থেকে পাঁচশ ডলার।

ক্যাসপারস্কি ল্যাবের বাংলাদেশ-ভুটানের পরিবেশক ‘অফিস এক্সট্রেক্ট’ এর সিইও প্রবীর সরকার বলেন, এরই মধ্যে আমরা দেশের মাঝারি ধরনের পাঁচটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ পেয়েছি।