দিনে কয়টি ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত?

স্বাস্থ্য ডেস্ক : আপনার কি মনে আছে একটা সময় লো-ফ্যাট খাবারকে স্বাস্থ্যকর মনে করা হতো? হয়তোবা মনে নেই। আগে সবধরনের ফ্যাটজাতীয় খাবার পরিহার করার চেষ্টা করা হতো।

আপনি যদি মনে করার চেষ্টা করেন তাহলে দেখবেন ডিমকে বলা হতো ‘অভিশপ্ত খাবার’। ডিম=কোলেস্টরল, যার মানে হল আপনার হার্টের জন্য দুঃসংবাদ। ঠিক কি না?

আমাদের অনেকের কাছে ডিম অপরপ্রান্তে বসে থাকা মেয়েটির মতোই আকর্ষণীয় এবং আমরা জানি যে সঠিক খাবার (ডিম সহ) আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়।

কিন্তু ডিমের মতো উচ্চ কোলেস্টেরল খাবার কি আমাদের বর্জন করা উচিত? সেটি আমাদের জানা দরকার।

ডিম : সুপারফুড নাকি বর্জনীয় খাদ্য

চলুন তবে দেরী না করে এক্ষুনি জেনে নেই। ডিম কি আপনার জন্য ভালো না মন্দ?- প্রশ্নটি অনেকটা এটি সাদা না কালো এর মতো।

১৯৭০ এর দশকের পর থেকে বিজ্ঞানীরা কোলেস্টেরল ও হৃদরোগের পিছনের কারণগুলো অনুসন্ধান করতে থাকলেন। তারা লক্ষ্য করলেন যাদের হৃদরোগ রয়েছে তাদের উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল হবার ঝুঁকি রয়েছে। তাই ভয়ে সকলেই কম কোলেস্টেরল সম্পন্ন খাবার যেমন: ভেজিটেবল তেল, মারজারিন (নকল মাখন) এর দিকে ঝুঁকতে থাকলেন।

যা হোক, সেটি ছিল ভুল চিন্তা। আসলে গবেষকরা পরবর্তীতে আরো গবেষণার পর জানতে পারলেন যে কোলেস্টেরল এর সঙ্গে হৃদরোগের কোনো সম্পর্ক নেই। দেহ নিজেই কোলেস্টেরল তৈরি করতে পারে। তাই সত্য হচ্ছে, যাদের হৃদরোগ রয়েছে তাদের উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল হবার ঝুঁকিটা লক্ষণ হতে পারে। সত্যি বলতে কি, কোলেস্টেরল একদিনের কোনো অসুখ নয় বরং দীর্ঘদিনের অবহেলার ফলাফল।

ড. ব্রুস গ্রিফিন, এনপিআরকে বলেন, প্রকৃতপক্ষে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে ‘ডায়েটারি কোলেস্টেরল (খাদ্যতালিকাগত কোলেস্টেরল)’- কোলেস্টেরল আপনার আহার অভ্যাস থেকেই সৃষ্ট। এখন সবাই সাধারণ ঐক্যমতে এসেছেন যে, ডায়েটারি কোলেস্টেরল প্রাথমিকভাবে সামুদ্রিক চিংড়ি থেকে ডিমে অনেক কম।

তাছাড়া যখন হৃদরোগ দেখা যায় তখন কোলেস্টেরল ছাড়াও অন্যান্য বিপজ্জনক প্রতিদ্বন্দ্বী রোগ দেখা যায়। অতিরিক্ত চিনি, ফ্যাট, স্যাচুরেটেড ফ্যাট, কোলেস্টেরল এর মাত্রা ভয়ংকরভাবে বাড়িয়ে দেয় বলে জানিয়েছে এনআরপি।

কিন্তু দাবীকৃত অন্যান্য খাবারের চিত্তাকর্ষক খাবারের তুলনায় ডিম কি একটি ‘সুপারফুড’? এনআরপি এর ভাষ্যমতে এখানে কোনো বাস্তব সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই। প্রায় ৩০ শতাংশ লোক ডিমকে ‘ডায়েটারি কোলেস্টেরল’ এর জন্য ‘অতি প্রতিক্রিয়াশীল’ মনে করে। এর মানে অন্যান্যদের তুলনায় তারা এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) বৃদ্ধির পক্ষে।

কতগুলো ডিম আপনার খাওয়া উচিত?

এখন প্রশ্ন আসে যে, এক সপ্তাহে আপনার কতগুলো ডিম খাওয়া যায়? খাদ্য বিশেষজ্ঞ এবং ‘দ্য স্মল চেঞ্জ ডায়েট’ এর লেখক কেরি গান্স এর মতানুসারে, ‘এটি নির্ভর করে আপনার প্রাত্যহিক আহার অভ্যাস এর ওপর। যদি আপনি প্রতিদিন প্রচুর প্রোটিন ও চর্বি গ্রহণ করে থাকেন তাহলে ডিম সম্ভবত আপনার জন্য ভালো নাও হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি ভারসাম্যপূর্ণ আহার যেমন: কম চর্বির সবজি, শস্যদানা, চর্বিহীন মাংস গ্রহণ করেন তাহলে দিনে ১-২টি এবং সপ্তাহে ১২টি পর্যন্ত ডিম আপনি অনায়াসেই খেতে পারেন। সম্ভবত এটিই আপনার জন্য নিরাপদ।

গান্স ‘ওমেন্স হেলথ’ এ ব্যাখ্যা করেন যে, ‘একজন ব্যক্তির লক্ষ্য করা উচিত তার খাদ্য তালিকায় কি পরিমান স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে।’ দিনে দুইটা ডিম খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত তবে আপনি যদি ডিমটি চিজ এর সঙ্গে খেতে পছন্দ করেন তাহলে আপনি আপনার চর্বির পরিমান বাড়িয়ে ফেলবেন এবং এতে থাকে প্রচুর ক্যালরি।

তাই, ডিম খেতে হবে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে। চিজ, বেকন, সসেজ ইত্যাদি অন্যান্য দিনের জন্যই বরং বরাদ্দ রাখুন। ডিমময় দিন- কি বলেন?