‘ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য বড় ধরণের আশংকার সৃষ্টি করেছে’

ruhul kabir rizbiওয়ান নিউজ বিডি, ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সম্প্রতি বক্তব্যে জনগণের মধ্যে তা বড় ধরণের আশংকার সৃষ্টি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ‘খালেদা জিয়ার জন্য সংবিধান ও নির্বাচন বসে থাকবে না’ এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ ধরণের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীকে সুখের ইন্ধন দিতে পারে, কিন্তু জনগণের মধ্যে তা বড় ধরণের আশংকার সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্যে যে ষড়যন্ত্র ও অশুভ পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত আছে তা কারো হৃদয়াঙ্গম করতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

শুক্রবার দলটির নয়া পল্টনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, নির্বাচন কী তাহলে শুধুমাত্র শেখ হাসিনার জন্যই ভোট-নির্বাচন বসে থাকবে? তার মুখ চেয়েই নির্বাচন হবে কী হবে না সেটি নির্ধারিত হবে?

বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব বলেন, আমরা প্রত্যয়-দৃঢ় কন্ঠে বলতে চাই-নির্বাচনে আস্থাশীল একটি দল, নির্বাচনে বিশ্বাসী একটি সংগঠন বিএনপি এবং বিএনপির চেয়ারপারসন যিনি বারবার অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে অর্গলমুক্ত করেছেন তাকে ও তার দলকে বাদ দিয়ে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারবে না।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ হাট, ঘাট, মাঠ, টার্মিনাল, সাধারণ মানুষের জোত-জমি দখলের মতো ভোট ও নির্বাচনকেও দখল করে নিয়েছে। সংবিধানকে নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য সেই দখলেরই প্রতিধ্বনি।

রিজভী অভিযোগ করেন, আগামী ৬ মার্চ ২০১৭ অনুষ্ঠিতব্য পাবনা জেলাধীন সুজানগর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিএনপি মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হাজারী জাকির হোসেন এর বাসায় গতরাত ৯টায় ৪টি মাইক্রো ও মোটরসাইকেল বোঝাই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তাকে বাসায় না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তার বাসায় ভাংচুর চালায়। আজ যেহেতু মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন, সেজন্য আওয়ামী প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা তাকে জোর করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্যই গতরাতে তার বাসায় হামলা চালায়। ভাংচুর শেষ করে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা বাড়ির সদস্যদের হুমকি দিয়ে বলে যে, যদি হাজারী জাকির হোসেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করে তবে দেখে নেয়া হবে। এটিই নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের নতুন দৃষ্টান্ত যে, তাদের কর্তৃত্বে নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে।

বিশ্বব্যাংক নিয়ে সরকার উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, পদ্মা সেতুর ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের মামলায় কানাডিয়ান আদালতের রায়ের পর বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাদের লাফালাফি ও দাম্ভিকতা বাংলাদেশের সঙ্গে সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংকের সম্পর্কের অবনতি হতে পারে বলে অনেকেই আশংকা প্রকাশ করছেন। আর এতে করে বাংলাদেশে চলমান অনেক উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নে সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক আমাদেরকে সর্বনিম্ন সুদে অর্থাৎ ০.৫% সুদে ঋণ দিয়ে থাকে। অন্য কোনোখান থেকে ঋণ নিতে হয় ৩% সুদ থেকে শুরু করে তারও উর্ধ্বে। ফলে বিশ্বব্যাংক সম্পর্কে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী থেকে শুরু করে দায়িত্বজ্ঞানহীন নেতারা যেভাবে বক্তব্য রাখছেন তা আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অশনি সংকেত। যা দেশের জন্য শুভ নয়, অশুভ লক্ষণ। এর ফলে দেশ বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

রিজভী বলেন, প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ সরকারের নির্দেশেই এনবিআর ও দুদক বাংলাদেশের অফিসে কাজ করা বিশ্বব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখে তাদের দুর্নীতির তদন্ত করছে। ইতিমধ্যে এনবিআর বিশ্বব্যাংকের ১৬টি গাড়ি তলব করেছে। এতো কিছুর পরও বিশ্বব্যাংক তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।

তিনি বলেন, সরকারের মন্ত্রী ও নেতাদের কথায় মনে হচ্ছে তারা যেন হঠাৎ করে দুধ দিয়ে গোসল করে নতুন গ্রহ থেকে আভির্ভুত হয়েছেন। যেখানে তারা সারা দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য বানিয়েছেন। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে দুর্নীতি নেই। লুট করে দেশের সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ফোকলা করে দেয়া হয়েছে। শেয়ার মার্কেটের লক্ষ কোটি টাকা লোপাট করে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও তাদের আত্মীয়স্বজনরা। হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে তারা এখন সুইস ব্যাংক ভরে ফেলেছেন।