রাজগঞ্জে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের মূল সহায়তাকারী আটক

sakaবিল্লাল হোসেন, রাজগঞ্জ: মণিরামপুরে রাজগঞ্জে নবম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে ধারণ করার ঘটনার মূল সহায়তাকারী কথিত কবিরাজ সাকাত চাকলাদারকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি আইনুদ্দিন তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেছেন। সাকাতকে আটকের পর সে পুলিশের কাছে স্কুল ছাত্রীর ধর্ষণের ভিডিও ধারণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সাকাত উপজেলার হাকিমপুর (নলতা) গ্রামের জিয়াদ আলী চাকলাদারের ছেলে।

আইসি আইনুদ্দিন জানান, স্কুল ছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণে সহায়তাকারী হিসাবে সাকাত কবিরাজকে আটক করা হয়েছে। সাকাত আমাদের জানিয়েছে, রুমান ও ওই মেয়েটি কয়েকদিন ধরে নলতা গ্রামে মোটরসাইকেলে করে ঘোরাফেরা করত। ঘটনার দিন রুমান ওই মেয়েকে মোটরসাইকেলে করে আমার বাড়িতে নিয়ে জানায়, তারা দু’জন স্বামী-স্ত্রী। তাদেরকে পরিবারের লোকজন মেনে নিচ্ছে না। তাই আমার কাছে তারা তদবির চায়। আমি তাদেরকে ঘরে গিয়ে বসতে বলে বাড়ির সামনে আমার চায়ের দোকানে যাই। এরমধ্যে তারা ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে ওইসব শুরু করে। এর কিছু সময় পরে রয়েল ও রুবেল ভ্যানে করে আমার কাছে গিয়ে রুমানের কথা জানতে চায়। আমি ঘরে আছে বলার পর তারা গিয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে মোবাইলে ঘটনাটি ভিডিও করে।

আইনুদ্দিন আরও জানান, আটক সাকাতকে ধর্ষণে সহায়তাকারী হিসাবে আদালতে চালান দেয়া হয়েছে। যেই খাটের ওপর মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে আলামত হিসাবে সেই খাটে বিছানো চাদরটি জব্দ করা হয়েছে। তবে বাদীপক্ষকে বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। তারা আমাকে সহযোগীতা না করায় আলামত সংগ্রহে বিঘ্ন ঘটছে। তাছাড়া মেয়েটিকে উদ্ধারের পর সে আমাদের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেনি। পরে ভিডিও প্রকাশ পেলে জানতে চাইলে মেয়েটি বলেছে, তার স্বামী এসব শুনলে তাকে নেবে না। তাই সে এসব স্বীকার যায়নি। মেয়েটির বর্তমান স্বামী তরিকুল মালয়েশিয়ান প্রবাসী। ঝিকরগাছার মুকুন্দপুর গ্রামের বাড়িতে তরিকুলের প্রথম স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে বলে জেনেছি, বলেন এই কর্মকর্তা।

মণিরামপুর থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ জানান, মোবাইল ট্রাকিং এর মাধ্যমে জানতে পেরেছি ধর্ষক রুমান পটুয়াখালীর কোন এক জায়গায় আত্মগোপন করে আছে। তার দুই সহযোগীও এলাকা ছাড়া। এরা দু’জন মোবাইল ব্যবহার করছে না। তবে তাদেরকে আটকে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ তারিখে মণিরামপুরের রাজগঞ্জ এলাকায় এক স্কুল ছাত্রী অপহরণের পর ধর্ষণের শিকার হয়। ওই ঘটনায় প্রথমে ওই ছাত্রীর মা মণিরামপুর থানায় তিন জনকে আসামী করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।