কেশবপুরে দুধর্ষ ডাকাতি মামলা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার পায়চারা!

স্টাফ রিপোর্টার: যশোরের কেশবপুর ভাল্লুকঘর গ্রামের এলাকায় ৪ বাড়িতে ডাকাতির মামলাটি ভিন্নখাতে নেয়ার পায়চারা চলছে। ঘটনার পর এক ডাকাত আটক হলেও তার থেকে কোন তথ্য উদ্ধার করা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ডাকাতদের গড ফাদার ওই এলাকার ইব্রাহিম হোসেন মোল্যা মামলাটির পেছনে নানা কলকাঠি নাড়ছেন।

২৪ জানুয়ারী দিনগত রাত দেড়টার দিকে ১২/১৪ জনের একদল ডাকাত নিজেদের ভালুকঘর ক্যাম্পের পুলিশ পরিচয় দিয়ে সকলকে ঘুম থেকে তুলে অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে ১৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ৫লাখ টাকা ও ৭টি মোবাইল সেটসহ ১৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ডাকাতি করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ডাকাতের শিকার পরিবারের কর্তাদের মধ্যে ভালুকঘর গ্রামের সরকার পাড়ার মৃত সুনীল সরকারের ছেলে নিখিল সরকার, অনন্ত সরকার, সুকান্ত সরকার ও অসিম সরকারের বাড়ি থেকে উল্লেখিত মালামাল নিয়ে যায় বলে গৃহকর্তারা সাংবাদিকদের জানান। এ ঘটনায় নিখিল সরকার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ২০ /২৫ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন।

ওই ডাকাতির সময় ডাকাতদের হাতে লাঞ্ছিত হন গৃহবধূ সবিতা সরকার(৫৪) ও মৌসুমী মিত্র। তখন আক্রান্ত পরিবারের গৃহবধু সবিতা সরকার জানান, তার শ্বশুরের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান ২৫ জানুয়ারী। সে লক্ষে বাড়িতে বিভিন্ন স্থান থেকে আত্মীয় স্বজন আসেন এবং আগামি ৫ ফেব্রুয়ারী তার কন্যার বিয়ের দিন ধার্য রয়েছে। সে কারনে জমি বিক্রির ৫লাখ টাকা বাড়িতে গচ্ছিত ছিলো। যা সবই নিয়ে যায় ডাকাতেরা।

ঘটনার পর স্থানীয় সাতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন দফাদার জানিয়েছিলেন, ডাকাতরা অল্প সময়ের মধ্যে ডাকাতি করে পালিয়ে গেছে। পরবর্তীতে পরিবারগুলোর চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলেও ডাকাতরা ধরাছোয়ার বাইরে চলে যায়। খবর পেয়ে  ওই রাতেই থানা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন সহ ডাকাতদের আটকে রাত ভোর চেষ্টা চালায়।

গত ২৪ জানুয়ারী সহকারি পুৃলিশ সুপার শেখ নাসের আহম্মেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ রায়হান কবীর ও কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সহিদুল ইসলাম সহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ সহিদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নিখিল সরকার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

কিন্তু মামলায় একমাত্র আমিনুর ডাকাত ছাড়া কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে জামায়াত অধ্যুষিত ওই এলাকায় ডাকাতদের গড ফাদার হিসাবে পরিচিত এলাকার ইব্রাহিম হোসেন মোল্যা। তিনি ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন। ১৯৯৬ সালে তিনি অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে আটক হন। একাধিক নাশকতার মামলার আসামি এই ইব্রাহিম ডাকাতি মামলায় আটক আমিনুর রহমানের ভাই মিজানকে সাথে নিয়ে প্রকাশ্যে এলাকায় চলাফেরা করেন। এছাড়া স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের সাথে রয়েছে তার গভীর সখ্যতা। ফলে ওই দুধর্ষ ডাকাতি মামলায় তিনি প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মাঠে নেমে পড়েছেন। পুলিশের সহযোগিতায় তাদের মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকৃত ডাকাতরা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। এলাকাবাসীর অভিযোগ ইব্রাহিম হোসেন মোল্যাকে আটক করতে পারলেই প্রকৃত ডাকাতদের আটক করা সম্ভব।