প্রতিবন্ধী, তবুও জীবন সংগ্রামে হারতে নারাজ আজগার

dsc00934বিল্লাল হোসেন, রাজগঞ্জ : আজগার আলী (৩৫)। জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তার বাম হাত ও দুই পা বাঁকা। হাত পায়ে শক্তি খুব কম পান বললেই চলে। কথাও বলতে পারেননা ঠিকমত। তবুও জীবন সংগ্রামে হারতে নারাজ এই ব্যাক্তি। কখনও দোকানদারি করে আবার কখনও ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ তার। স্থানীয়রা এই জন্য আজগারের খুব প্রশংসাও করেন। তারা বলছেন, অন্য কেউ হলেতো ভিক্ষা করে খেত। কিন্তু আজগার তা না করে ভ্যান চালানোর মত কঠিন কাজ করে জীবন চালায় এর জন্য এলাকাবাসী তার প্রতি সন্তুষ্ট।

মণিরামপুরের ঝাঁপা ইউনিয়নের রাজগঞ্জের মনোহরপুর গ্রামের ওমর আলীর একমাত্র ছেলে এই প্রতিবন্ধী আজগার আলী। স্ত্রী, দুই সন্তান, পিতা, মাতা ও তিন বোন নিয়ে তার সংসার। পুরো সংসারটাই তার ওপর নির্ভরশীল। বাড়ির সামনে ছোট একটি দোকান ও পায়ে চালিত ভ্যান চালিয়ে এতবড় সংসার চালাতে হয় তাকে। অবশ্য তার  পিতাও তাকে দোকানের কাজে সহযোগিতা করেন।

বুধবার বিকেলে রাজগঞ্জ বাজার থেকে ভ্যান ভর্তি মালামাল দিয়ে খেদাপাড়া বাজারের দিকে যাওয়ার পথে দোঁদাড়িয়া বটতলা মোড়ে কথা হয় আজগার আলীর সাথে। তিনি জানান, আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই তবুও ভিক্ষা করি না। আগে আয় বেশি হইতো। এখন ইঞ্জিন ভ্যান বেশি হওয়ায় দিনে এক দেড়শ টাকা হয়।

প্রতিবন্ধী ভাতা পান কিনা জানতে চাইলে আজগার আলী বলেন, ওয়ার্ডের আগের মেম্বর খোকন থাকতি কয়মাস আগে একটা কার্ড কইরে দেছে। দোঁদাড়িয়া মোড়ের চা বিক্রেতা শামসুর, খলিলসহ স্থানীয়  অনেকেই বলেন, আজগার প্রতিবন্ধী হলেও কাজ করে খায়। অন্য কেউ হলে হয়তো ভিক্ষা করে খেত। এই জন্য তারা আজগারের প্রশংসাও করেছেন।